ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অভিষেককে হেনস্তা, বিজেপিকে দায়ী করলেন মমতা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬

অভিষেককে হেনস্তা, বিজেপিকে দায়ী করলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

শনিবার সোনারপুরে দলীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি, চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরা অভিষেক ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন।

ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে দায়ী করে বলেন, ক্ষমতাসীনরা খুনির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ ঘটনায় বিজেপির লজ্জিত হওয়া উচিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এটি ছিল তার অন্যতম কঠোর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হামলাকে বিজেপি-সমর্থিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এলাকা ছাড়বেন না বলেও জানান।

অন্যদিকে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য বলেন, ডিম নিক্ষেপ বা হেনস্তার ঘটনায় দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক কিংবা রাজনৈতিক অধিকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেই।

তবে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে ঔদ্ধত্য ও একদলীয় আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেসও। দলটির অভিযোগ, বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সফরের সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না থাকা উদ্বেগজনক। সব বিরোধী নেতার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে রাজ্যটি বহুবার সংঘাত ও সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে। যদিও এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি, ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বিষয় : ভারত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


অভিষেককে হেনস্তা, বিজেপিকে দায়ী করলেন মমতা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

শনিবার সোনারপুরে দলীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি, চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরা অভিষেক ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন।

ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে দায়ী করে বলেন, ক্ষমতাসীনরা খুনির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ ঘটনায় বিজেপির লজ্জিত হওয়া উচিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এটি ছিল তার অন্যতম কঠোর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হামলাকে বিজেপি-সমর্থিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এলাকা ছাড়বেন না বলেও জানান।

অন্যদিকে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য বলেন, ডিম নিক্ষেপ বা হেনস্তার ঘটনায় দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক কিংবা রাজনৈতিক অধিকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেই।

তবে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে ঔদ্ধত্য ও একদলীয় আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেসও। দলটির অভিযোগ, বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সফরের সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না থাকা উদ্বেগজনক। সব বিরোধী নেতার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে রাজ্যটি বহুবার সংঘাত ও সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে। যদিও এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি, ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ