রাজধানীর শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। হামলার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রমাণ ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে জামায়াতকে দায়ী করার চেষ্টা চলছে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, শাহ আলীর মাজারে হামলার সঙ্গে জামায়াতের ‘দূরতম সম্পর্কও নেই’। তার দাবি, কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি এটিকে কেবল মিথ্যাচার নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক চরিত্র কখনোই সহিংসতা বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণকে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, সেখানে হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা গেছে। প্রকৃত হামলাকারীদের পরিচয় উদঘাটন করা গণমাধ্যম ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই জামায়াতকে দায়ী করে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি সাংবাদিকতা নয়, বরং হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ।”
তার ভাষ্য, জনগণ এখন অনেক সচেতন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আগের মতো নেই। গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এলেও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জামায়াত-সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তার দাবি, এটি নিরপেক্ষ বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
প্রশাসনের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, ভিডিও প্রমাণ বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাবে। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজারকেন্দ্রিক যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পেছনে ধর্মীয় উগ্রতা নয়; বরং রয়েছে দখলদারিত্ব ও আর্থিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব। তার অভিযোগ, অতীতে পতিত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা বিভিন্ন মাজার নিয়ন্ত্রণ করত, তারাই নতুন পরিস্থিতিতে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
এই দখলকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতার পেছনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ খুঁজে বের করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এদিকে শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্তের অগ্রগতি বা দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
রাজধানীর শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। হামলার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রমাণ ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে জামায়াতকে দায়ী করার চেষ্টা চলছে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, শাহ আলীর মাজারে হামলার সঙ্গে জামায়াতের ‘দূরতম সম্পর্কও নেই’। তার দাবি, কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি এটিকে কেবল মিথ্যাচার নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক চরিত্র কখনোই সহিংসতা বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণকে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, সেখানে হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা গেছে। প্রকৃত হামলাকারীদের পরিচয় উদঘাটন করা গণমাধ্যম ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই জামায়াতকে দায়ী করে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি সাংবাদিকতা নয়, বরং হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ।”
তার ভাষ্য, জনগণ এখন অনেক সচেতন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আগের মতো নেই। গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এলেও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জামায়াত-সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তার দাবি, এটি নিরপেক্ষ বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
প্রশাসনের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, ভিডিও প্রমাণ বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাবে। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজারকেন্দ্রিক যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পেছনে ধর্মীয় উগ্রতা নয়; বরং রয়েছে দখলদারিত্ব ও আর্থিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব। তার অভিযোগ, অতীতে পতিত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা বিভিন্ন মাজার নিয়ন্ত্রণ করত, তারাই নতুন পরিস্থিতিতে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
এই দখলকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতার পেছনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ খুঁজে বের করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এদিকে শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্তের অগ্রগতি বা দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন