দেশজুড়ে বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে টানা বৃষ্টি ও নিম্নচাপজনিত আবহাওয়ার প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এলেও ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা এখনো কাটেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের অন্তত ১৫টি জেলায় বজ্রবৃষ্টি ও দমকা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও অস্থায়ী দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
একই সময়ে ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে তুলনামূলক কম তীব্রতার হলেও ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এসব নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপ পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে কালবৈশাখী ধরনের ঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের শুরুতেই বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি দেখা দিতে পারে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বোচ্চ ১২১ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও কৃষিজমিরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড় স্বাভাবিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর তীব্রতা ও অনিয়মিত আচরণ বেড়েছে। ফলে আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটছে, যা জনজীবন ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থান, বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং নদী বা জলাশয়ে ছোট নৌযান চলাচল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। কৃষকদেরও মাঠে কাজের সময় সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কারণ হঠাৎ ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সকাল থেকেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার আরও পরিবর্তন হতে পারে।
বিষয় : ঝড়

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
দেশজুড়ে বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে টানা বৃষ্টি ও নিম্নচাপজনিত আবহাওয়ার প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এলেও ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা এখনো কাটেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের অন্তত ১৫টি জেলায় বজ্রবৃষ্টি ও দমকা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও অস্থায়ী দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
একই সময়ে ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে তুলনামূলক কম তীব্রতার হলেও ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এসব নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপ পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে কালবৈশাখী ধরনের ঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের শুরুতেই বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি দেখা দিতে পারে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বোচ্চ ১২১ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও কৃষিজমিরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড় স্বাভাবিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর তীব্রতা ও অনিয়মিত আচরণ বেড়েছে। ফলে আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটছে, যা জনজীবন ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থান, বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং নদী বা জলাশয়ে ছোট নৌযান চলাচল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। কৃষকদেরও মাঠে কাজের সময় সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কারণ হঠাৎ ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সকাল থেকেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার আরও পরিবর্তন হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন