ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যে কূটনৈতিক উত্তাপ, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যে কূটনৈতিক উত্তাপ, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

বাংলাদেশকে নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদে-কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে এনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহানের দপ্তরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি লাইভে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা ঢাকা ‘অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে তথাকথিত ‘পুশব্যাক’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, এ ধরনের সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে প্রমাণহীন বা ভিত্তিহীন বক্তব্য জনসমক্ষে দেওয়া দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানায়, এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তাই যেকোনো অমীমাংসিত বিষয় আলোচনা ও প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, সীমান্ত ইস্যু বা অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসব বিষয়ে একতরফা বা রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় ভারতীয় পক্ষকে।

অন্যদিকে, ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি এ বিষয়ে তার সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ ইতিবাচক ধারায় এগোলেও মাঝে মাঝে রাজনৈতিক পর্যায়ের মন্তব্য এ সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। বিশেষ করে সীমান্ত, অভিবাসন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।

তারা আরও বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে হলে উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংযম এবং কূটনৈতিক চ্যানেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি না হলেও কূটনৈতিক মহলে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিষয় : হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভারতীয় হাইকমিশনার

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যে কূটনৈতিক উত্তাপ, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশকে নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার ভাদে-কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে এনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহানের দপ্তরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি লাইভে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা ঢাকা ‘অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে তথাকথিত ‘পুশব্যাক’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, এ ধরনের সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে প্রমাণহীন বা ভিত্তিহীন বক্তব্য জনসমক্ষে দেওয়া দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানায়, এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তাই যেকোনো অমীমাংসিত বিষয় আলোচনা ও প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, সীমান্ত ইস্যু বা অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসব বিষয়ে একতরফা বা রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় ভারতীয় পক্ষকে।

অন্যদিকে, ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি এ বিষয়ে তার সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ ইতিবাচক ধারায় এগোলেও মাঝে মাঝে রাজনৈতিক পর্যায়ের মন্তব্য এ সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। বিশেষ করে সীমান্ত, অভিবাসন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।

তারা আরও বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে হলে উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংযম এবং কূটনৈতিক চ্যানেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি না হলেও কূটনৈতিক মহলে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ