ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বগুড়ার মালঞ্চায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী আটক



বগুড়ার মালঞ্চায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী আটক
ছবি : প্রতিনিধি

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের বিশা চুনাগাড়ি গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত বৃষ্টি খাতুন (২৮) স্বামীর বাড়িতেই শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে মারা যান। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী মুক্তার হোসেন (৩০) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তার বর্ষা (১৯)-কে আটক করেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সম্ভাব্য জনরোষ এড়াতে মুক্তার হোসেন নিজেই থানায় যোগাযোগ করেন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে আটক করা হয়। একই সময়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তার বর্ষাকেও মুক্তারের বাড়ি থেকে আটক করে কাহালু থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বৃষ্টি খাতুন উপজেলার বিশা চুনাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের পুত্রবধূ। মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার মুন্নি আক্তার বর্ষাকে বিয়ে করেন এবং মাত্র দুই দিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

গ্রামবাসীর দাবি, দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করে এবং সেই জেরেই বৃষ্টি খাতুন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই মুক্তার হোসেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন, যা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বৃষ্টি খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, নিহত বৃষ্টি খাতুনের একটি ছয় বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে, যে এখন মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সবাই এখন তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বগুড়ার মালঞ্চায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের বিশা চুনাগাড়ি গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত বৃষ্টি খাতুন (২৮) স্বামীর বাড়িতেই শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে মারা যান। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী মুক্তার হোসেন (৩০) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তার বর্ষা (১৯)-কে আটক করেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সম্ভাব্য জনরোষ এড়াতে মুক্তার হোসেন নিজেই থানায় যোগাযোগ করেন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে আটক করা হয়। একই সময়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তার বর্ষাকেও মুক্তারের বাড়ি থেকে আটক করে কাহালু থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বৃষ্টি খাতুন উপজেলার বিশা চুনাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের পুত্রবধূ। মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার মুন্নি আক্তার বর্ষাকে বিয়ে করেন এবং মাত্র দুই দিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

গ্রামবাসীর দাবি, দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করে এবং সেই জেরেই বৃষ্টি খাতুন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই মুক্তার হোসেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন, যা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বৃষ্টি খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, নিহত বৃষ্টি খাতুনের একটি ছয় বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে, যে এখন মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সবাই এখন তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ