ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড



চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি : প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সালাম (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ওই স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করে একই গ্রামের বজলুর রশিদ মজুর ছেলে সালাম। অপহরণের পর ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন ও "কাল্পনিক কাবিননামা" তৈরি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বারবার ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানির ভিত্তিতে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুটি ধারায় সাজা প্রদান করেন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারা: এই ধারায় (ধর্ষণ) আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড** এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আইনের ৭ ধারা: অপহরণের দায়ে তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:আদালত উল্লেখ করেছেন যে, আসামির উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার পরপরই কড়া পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত সালামকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন: "বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে এবং অপরাধীদের দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি এবং এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবার অত্যন্ত সন্তুষ্ট।"

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায় পাওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গায় দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সালাম (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ওই স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করে একই গ্রামের বজলুর রশিদ মজুর ছেলে সালাম। অপহরণের পর ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন ও "কাল্পনিক কাবিননামা" তৈরি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বারবার ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানির ভিত্তিতে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুটি ধারায় সাজা প্রদান করেন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারা: এই ধারায় (ধর্ষণ) আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড** এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আইনের ৭ ধারা: অপহরণের দায়ে তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:আদালত উল্লেখ করেছেন যে, আসামির উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার পরপরই কড়া পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত সালামকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন: "বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে এবং অপরাধীদের দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি এবং এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবার অত্যন্ত সন্তুষ্ট।"

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায় পাওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ