রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কৌশলে একাধিক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে যৌন সহিংসতা, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভিকটিমের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
কীভাবে চালাত অপরাধ এই বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাব্বি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ একটি ভুয়া (ফেইক) আইডি খুলে নারী পরিচয়ে বিভিন্ন তরুণের সঙ্গে যোগাযোগ করত। কৌশলে একজনের মোবাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেই ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে তার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের টার্গেট করত।
প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে ‘গিফট’ বা উপহার দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিত। সাধারণত যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের উপরের তলায় তাদের নিয়ে যাওয়া হতো।
ভয়াবহ অপরাধের ধরণ সম্পর্কে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্জন ভবনে নেওয়ার পর ভিকটিমদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হতো এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হতো। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পর্নোগ্রাফি সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভিকটিমদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো।
এভাবে অভিযুক্ত ভিকটিমদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করত এবং অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করত। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
একাধিক ঘটনার তথ্যের তদন্তে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ দুপুরে ‘ফ্যামিলি মিট-আপ’-এর কথা বলে এক তরুণীকে একই নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
এরপর ওই ভিকটিমের ফোন ব্যবহার করে তার পরিচিত আরেক তরুণীকে টার্গেট করা হয়। গত ৬ এপ্রিল ‘পোশাক ডেলিভারি’ দেওয়ার কথা বলে তাকে একই এলাকায় ডেকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ অর্থ লুট করা হয়।
এছাড়া ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় আরও এক তরুণীর সঙ্গে একই ধরনের কৌশলে যোগাযোগ করে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ও মামলা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত রাব্বিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও ভিকটিম শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত আইডির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা, সন্দেহজনক ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া এবং কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কৌশলে একাধিক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে যৌন সহিংসতা, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভিকটিমের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
কীভাবে চালাত অপরাধ এই বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাব্বি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ একটি ভুয়া (ফেইক) আইডি খুলে নারী পরিচয়ে বিভিন্ন তরুণের সঙ্গে যোগাযোগ করত। কৌশলে একজনের মোবাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেই ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে তার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের টার্গেট করত।
প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে ‘গিফট’ বা উপহার দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিত। সাধারণত যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের উপরের তলায় তাদের নিয়ে যাওয়া হতো।
ভয়াবহ অপরাধের ধরণ সম্পর্কে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্জন ভবনে নেওয়ার পর ভিকটিমদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হতো এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হতো। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পর্নোগ্রাফি সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভিকটিমদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো।
এভাবে অভিযুক্ত ভিকটিমদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করত এবং অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করত। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
একাধিক ঘটনার তথ্যের তদন্তে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ দুপুরে ‘ফ্যামিলি মিট-আপ’-এর কথা বলে এক তরুণীকে একই নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
এরপর ওই ভিকটিমের ফোন ব্যবহার করে তার পরিচিত আরেক তরুণীকে টার্গেট করা হয়। গত ৬ এপ্রিল ‘পোশাক ডেলিভারি’ দেওয়ার কথা বলে তাকে একই এলাকায় ডেকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ অর্থ লুট করা হয়।
এছাড়া ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় আরও এক তরুণীর সঙ্গে একই ধরনের কৌশলে যোগাযোগ করে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ও মামলা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত রাব্বিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও ভিকটিম শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত আইডির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা, সন্দেহজনক ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া এবং কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন