ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঢাকায়ও শুরু হচ্ছে লোডশেডিং


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকায়ও শুরু হচ্ছে লোডশেডিং

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে লোডশেডিং চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বৈষম্য কমানো এখন জরুরি। রাজধানীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রেখে গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলতে পারে না। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে গ্রামাঞ্চলে সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় ঢাকাকেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশীদার করা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে সীমিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে এর পরিধি বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দৈনিক গ্যাস চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কারণ দেশের বড় একটি অংশের বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসনির্ভর।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এলএনজি আমদানি, পাইপলাইন সক্ষমতা, টার্মিনাল সুবিধা এবং পরিবহন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটাতে সময় লাগছে।

বর্তমান সংকটের আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি জানান, একটি আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে গেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ্র দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্র চালু হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় সমন্বয় এনে কোথাও অতিরিক্ত চাপ এবং কোথাও ঘাটতি কমানোর কাজ চলছে।

সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফসল কাটার মৌসুমে সেচ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষি উৎপাদনে বিদ্যুতের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।

রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করলেও সরকার এটিকে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।

জনভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

#আর

বিষয় : ঢাকা লোডশেডিং

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


ঢাকায়ও শুরু হচ্ছে লোডশেডিং

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে লোডশেডিং চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বৈষম্য কমানো এখন জরুরি। রাজধানীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রেখে গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলতে পারে না। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে গ্রামাঞ্চলে সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় ঢাকাকেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশীদার করা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে সীমিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে এর পরিধি বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দৈনিক গ্যাস চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কারণ দেশের বড় একটি অংশের বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসনির্ভর।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এলএনজি আমদানি, পাইপলাইন সক্ষমতা, টার্মিনাল সুবিধা এবং পরিবহন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটাতে সময় লাগছে।

বর্তমান সংকটের আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি জানান, একটি আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে গেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ্র দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্র চালু হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় সমন্বয় এনে কোথাও অতিরিক্ত চাপ এবং কোথাও ঘাটতি কমানোর কাজ চলছে।

সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফসল কাটার মৌসুমে সেচ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষি উৎপাদনে বিদ্যুতের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।

রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করলেও সরকার এটিকে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।

জনভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ