ঢাকা, ২১ এপ্রিল: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে সফররত বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝ্যাং।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা যায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে চীন সফর করছে। সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হান ঝ্যাং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন ধারাবাহিকতা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা গভীর করার প্রসঙ্গে হান ঝ্যাং বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে চীন আগ্রহী। বিশেষ করে বিএনপির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক হবে বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকুক বা বিরোধী দলে থাকুক, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, নতুন সরকার ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সম্মান অব্যাহত রাখবে এবং চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে পূর্বের অবস্থান বজায় রাখবে। পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ফলে শুধু সরকার নয়, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হয়ে উঠছে বৈশ্বিক শক্তিগুলো। চীনের পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধির বার্তা সেই কূটনৈতিক বাস্তবতারই অংশ।
তাদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে বেইজিং। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই চীনের এ তৎপরতা।
বিএনপি প্রতিনিধি দলের চীন সফরে আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
#আর
বিষয় : বিএনপি

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা, ২১ এপ্রিল: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে সফররত বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝ্যাং।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা যায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে চীন সফর করছে। সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হান ঝ্যাং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন ধারাবাহিকতা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা গভীর করার প্রসঙ্গে হান ঝ্যাং বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে চীন আগ্রহী। বিশেষ করে বিএনপির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক হবে বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকুক বা বিরোধী দলে থাকুক, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, নতুন সরকার ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সম্মান অব্যাহত রাখবে এবং চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে পূর্বের অবস্থান বজায় রাখবে। পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ফলে শুধু সরকার নয়, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হয়ে উঠছে বৈশ্বিক শক্তিগুলো। চীনের পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধির বার্তা সেই কূটনৈতিক বাস্তবতারই অংশ।
তাদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে বেইজিং। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই চীনের এ তৎপরতা।
বিএনপি প্রতিনিধি দলের চীন সফরে আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন