ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরান অভিযানে ট্রাম্পের আচরণে উদ্বেগ, ওয়ার রুমের বাইরে রাখতেন সহযোগীরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরান অভিযানে ট্রাম্পের আচরণে উদ্বেগ, ওয়ার রুমের বাইরে রাখতেন সহযোগীরা

ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিযানের সংবেদনশীল মুহূর্তগুলোতে ট্রাম্পকে নিয়মিতভাবে ওয়ার রুমের বাইরে রাখা হতো এবং কেবল প্রয়োজনীয় পর্যায়ে তাকে ব্রিফ করা হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করতেন, সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ট্রাম্পের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ ও অধৈর্য আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। এজন্য তাকে প্রতিটি পর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত না করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিস্থিতি জানানো হতো।

একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এবং দুইজন বৈমানিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে সহযোগীদের ওপর চিৎকার করেন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রাম্প বারবার জানতে চাইছিলেন কেন যুক্তরাষ্ট্র একা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং মিত্ররা দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে না। তার এই প্রতিক্রিয়া জাতীয় নিরাপত্তা টিমের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচনী প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকটের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই ঘটনার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে। ট্রাম্প আশঙ্কা করেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে তার জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে জানান, ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি বড় ধরনের অভিযান না থাকায় তা বাস্তবায়নে বিশাল লজিস্টিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বিশেষ করে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকির কারণে দ্রুত স্থল অভিযান সহজ নয় বলে কর্মকর্তারা মত দেন। এতে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

আরেকটি আলোচিত প্রস্তাব ছিল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলে সেনা পাঠানো। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু মহল থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এতে সম্মতি দেননি। সম্ভাব্য হতাহতের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি বলেন, সেখানে সেনা পাঠানো হলে তারা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ অবস্থান ট্রাম্পের নীতিতে দ্বৈততা তুলে ধরে। একদিকে তিনি শক্ত অবস্থান দেখাতে চাইতেন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা বড় ধরনের মার্কিন প্রাণহানির দায় নিতে অনাগ্রহী ছিলেন।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টকে ওয়ার রুমের বাইরে রাখা বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত সামরিক সংকটের সময় প্রেসিডেন্ট সরাসরি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকেন। ফলে এই প্রতিবেদন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে ব্যক্তিত্ব, মেজাজ এবং নেতৃত্বের ধরন বড় ভূমিকা রাখে। সংকট মুহূর্তে একজন প্রেসিডেন্টের স্থিরতা যেমন কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে, তেমনি অস্থিরতা পুরো সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকরা এটিকে অতিরঞ্জিত দাবি বললেও সমালোচকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কাঠামোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। ইরান ইস্যু ঘিরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে।

#আর

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ইরান অভিযানে ট্রাম্পের আচরণে উদ্বেগ, ওয়ার রুমের বাইরে রাখতেন সহযোগীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিযানের সংবেদনশীল মুহূর্তগুলোতে ট্রাম্পকে নিয়মিতভাবে ওয়ার রুমের বাইরে রাখা হতো এবং কেবল প্রয়োজনীয় পর্যায়ে তাকে ব্রিফ করা হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করতেন, সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ট্রাম্পের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ ও অধৈর্য আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। এজন্য তাকে প্রতিটি পর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত না করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিস্থিতি জানানো হতো।

একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এবং দুইজন বৈমানিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে সহযোগীদের ওপর চিৎকার করেন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রাম্প বারবার জানতে চাইছিলেন কেন যুক্তরাষ্ট্র একা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং মিত্ররা দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে না। তার এই প্রতিক্রিয়া জাতীয় নিরাপত্তা টিমের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচনী প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকটের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই ঘটনার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে। ট্রাম্প আশঙ্কা করেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে তার জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে জানান, ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি বড় ধরনের অভিযান না থাকায় তা বাস্তবায়নে বিশাল লজিস্টিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বিশেষ করে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকির কারণে দ্রুত স্থল অভিযান সহজ নয় বলে কর্মকর্তারা মত দেন। এতে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

আরেকটি আলোচিত প্রস্তাব ছিল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলে সেনা পাঠানো। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু মহল থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এতে সম্মতি দেননি। সম্ভাব্য হতাহতের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি বলেন, সেখানে সেনা পাঠানো হলে তারা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ অবস্থান ট্রাম্পের নীতিতে দ্বৈততা তুলে ধরে। একদিকে তিনি শক্ত অবস্থান দেখাতে চাইতেন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা বড় ধরনের মার্কিন প্রাণহানির দায় নিতে অনাগ্রহী ছিলেন।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টকে ওয়ার রুমের বাইরে রাখা বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত সামরিক সংকটের সময় প্রেসিডেন্ট সরাসরি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকেন। ফলে এই প্রতিবেদন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে ব্যক্তিত্ব, মেজাজ এবং নেতৃত্বের ধরন বড় ভূমিকা রাখে। সংকট মুহূর্তে একজন প্রেসিডেন্টের স্থিরতা যেমন কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে, তেমনি অস্থিরতা পুরো সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকরা এটিকে অতিরঞ্জিত দাবি বললেও সমালোচকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কাঠামোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। ইরান ইস্যু ঘিরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ