ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিবিএস-এর জরিপ

দেশের অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও এখনো বড় ধরনের লিঙ্গ, ভৌগোলিক ও আর্থিক বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ’ শীর্ষক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়ে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএসের সম্মেলন কক্ষে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। এছাড়া বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও নারী ব্যবহারকারী মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। এই ব্যবধান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, এখনো ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল খাতে নারীদের অংশগ্রহণ কম হওয়া শুধু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত নানা বাধার ফল। অনেক নারী এখনো ব্যক্তিগত ডিভাইস, ইন্টারনেট ব্যয় এবং ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনলাইন সেবার বাইরে থাকছেন।

শহর ও গ্রামের মধ্যেও ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় বৈষম্য দেখা গেছে। শহর এলাকায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামাঞ্চলে এ হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহর–গ্রামের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ, যা দেশের ডিজিটাল উন্নয়নের অসম চিত্রকে তুলে ধরে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে পঞ্চগড় জেলায় ব্যবহার হার সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে অগ্রগতি থাকলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় ঘাটতি রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল রয়েছে মাত্র ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো সীমিত, মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। তবে অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। জরিপে দেখা যায়, ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি–পেস্ট করতে পারেন, যা সবচেয়ে প্রচলিত মৌলিক দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তারা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যয়কে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। তাদের মতে, উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই নিয়মিত বা পূর্ণাঙ্গভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না।

বিবিএসের এই জরিপে সামগ্রিকভাবে উঠে এসেছে, দেশে ডিজিটাল সংযোগ বাড়লেও তা এখনো সমানভাবে বিতরণ হয়নি। নারী-পুরুষ, শহর-গ্রাম এবং অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনে আরও চ্যালেঞ্জ থেকে যাবে।

#আর

বিষয় : ইন্টারনেট নারী বিবিএস

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


দেশের অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও এখনো বড় ধরনের লিঙ্গ, ভৌগোলিক ও আর্থিক বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ’ শীর্ষক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়ে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএসের সম্মেলন কক্ষে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। এছাড়া বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও নারী ব্যবহারকারী মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। এই ব্যবধান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, এখনো ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল খাতে নারীদের অংশগ্রহণ কম হওয়া শুধু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত নানা বাধার ফল। অনেক নারী এখনো ব্যক্তিগত ডিভাইস, ইন্টারনেট ব্যয় এবং ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনলাইন সেবার বাইরে থাকছেন।

শহর ও গ্রামের মধ্যেও ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় বৈষম্য দেখা গেছে। শহর এলাকায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামাঞ্চলে এ হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহর–গ্রামের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ, যা দেশের ডিজিটাল উন্নয়নের অসম চিত্রকে তুলে ধরে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে পঞ্চগড় জেলায় ব্যবহার হার সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে অগ্রগতি থাকলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় ঘাটতি রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল রয়েছে মাত্র ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো সীমিত, মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। তবে অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। জরিপে দেখা যায়, ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি–পেস্ট করতে পারেন, যা সবচেয়ে প্রচলিত মৌলিক দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তারা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যয়কে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। তাদের মতে, উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই নিয়মিত বা পূর্ণাঙ্গভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না।

বিবিএসের এই জরিপে সামগ্রিকভাবে উঠে এসেছে, দেশে ডিজিটাল সংযোগ বাড়লেও তা এখনো সমানভাবে বিতরণ হয়নি। নারী-পুরুষ, শহর-গ্রাম এবং অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনে আরও চ্যালেঞ্জ থেকে যাবে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ