ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তীব্র গরমে কি মাইগ্রেন বাড়ছে? জানুন করণীয়


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র গরমে কি মাইগ্রেন বাড়ছে? জানুন করণীয়

দেশজুড়ে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেক রোগী। চিকিৎসকদের মতে, গরম আবহাওয়ায় শুধু অস্বস্তিই নয়, বরং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা মস্তিষ্কের রক্তনালির কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাইগ্রেনকে সাধারণ মাথাব্যথা হিসেবে না দেখে এটিকে একটি স্নায়বিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নির্দিষ্ট পরিবেশ ও শারীরিক অবস্থায় আরও তীব্র হতে পারে। ক্যানপুরের রিজেন্সি হেলথের প্রধান কনসালট্যান্ট ডা. রূপালী মেহরোত্রার মতে, গরমের সময় মাইগ্রেনের রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার হার বেড়ে যায়। তিনি জানান, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা থার্মোরেগুলেশন সক্রিয় হলে মস্তিষ্কের রক্তনালি প্রসারিত হয়, যাকে ভাসোডাইলেশন বলা হয়। এই প্রক্রিয়া মাইগ্রেনপ্রবণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, গরমে পানিশূন্যতা মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। শরীরের মাত্র ২ শতাংশ পানির ঘাটতিও মস্তিষ্কের টিস্যু সংকোচনের কারণ হতে পারে, যা ব্যথা-সংবেদনশীল নার্ভকে উদ্দীপিত করে মাথাব্যথা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি না খেলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সূর্যালোকও মাইগ্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে তীব্র সূর্যালোক ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সকে অতিরিক্ত উদ্দীপিত করে, যা অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা বা সরাসরি রোদে কাজ করা মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘুমের ব্যাঘাতও গরমের কারণে মাইগ্রেনকে জটিল করে তুলতে পারে। রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের মান কমে যায়, যা স্নায়বিক ভারসাম্য নষ্ট করে মাথাব্যথার প্রবণতা বাড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাইগ্রেন ও পানিশূন্যতাজনিত মাথাব্যথা এক নয়। মাইগ্রেন সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা হিসেবে দেখা দেয়, যা নড়াচড়া করলে বেড়ে যায় এবং সঙ্গে বমিভাব, আলো ও শব্দে অস্বস্তি থাকে। অন্যদিকে পানিশূন্যতার মাথাব্যথা তুলনামূলকভাবে পুরো মাথাজুড়ে হালকা ব্যথা হিসেবে প্রকাশ পায় এবং পানি পান করলে অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. রূপালী মেহরোত্রা জানান, মাইগ্রেন শুরু হলে রোগীকে ঠান্ডা ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ট্রিপটানস বা ন্যাপ্রোক্সেন সোডিয়াম জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, সাধারণত ২.৫ থেকে ৩ লিটার, গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকা, নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণ, হালকা ও পানিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ঘুম বজায় রাখা মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ইউভি-সুরক্ষিত পোশাক ব্যবহার এবং সূর্যের তীব্র আলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, যদি তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে তা সাধারণ মাইগ্রেন নয় এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম আবহাওয়ায় জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই মাইগ্রেনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে।

#আরএ

বিষয় : মাইগ্রেন

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তীব্র গরমে কি মাইগ্রেন বাড়ছে? জানুন করণীয়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেক রোগী। চিকিৎসকদের মতে, গরম আবহাওয়ায় শুধু অস্বস্তিই নয়, বরং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা মস্তিষ্কের রক্তনালির কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাইগ্রেনকে সাধারণ মাথাব্যথা হিসেবে না দেখে এটিকে একটি স্নায়বিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নির্দিষ্ট পরিবেশ ও শারীরিক অবস্থায় আরও তীব্র হতে পারে। ক্যানপুরের রিজেন্সি হেলথের প্রধান কনসালট্যান্ট ডা. রূপালী মেহরোত্রার মতে, গরমের সময় মাইগ্রেনের রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার হার বেড়ে যায়। তিনি জানান, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা থার্মোরেগুলেশন সক্রিয় হলে মস্তিষ্কের রক্তনালি প্রসারিত হয়, যাকে ভাসোডাইলেশন বলা হয়। এই প্রক্রিয়া মাইগ্রেনপ্রবণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, গরমে পানিশূন্যতা মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। শরীরের মাত্র ২ শতাংশ পানির ঘাটতিও মস্তিষ্কের টিস্যু সংকোচনের কারণ হতে পারে, যা ব্যথা-সংবেদনশীল নার্ভকে উদ্দীপিত করে মাথাব্যথা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি না খেলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সূর্যালোকও মাইগ্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে তীব্র সূর্যালোক ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সকে অতিরিক্ত উদ্দীপিত করে, যা অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা বা সরাসরি রোদে কাজ করা মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘুমের ব্যাঘাতও গরমের কারণে মাইগ্রেনকে জটিল করে তুলতে পারে। রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের মান কমে যায়, যা স্নায়বিক ভারসাম্য নষ্ট করে মাথাব্যথার প্রবণতা বাড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাইগ্রেন ও পানিশূন্যতাজনিত মাথাব্যথা এক নয়। মাইগ্রেন সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা হিসেবে দেখা দেয়, যা নড়াচড়া করলে বেড়ে যায় এবং সঙ্গে বমিভাব, আলো ও শব্দে অস্বস্তি থাকে। অন্যদিকে পানিশূন্যতার মাথাব্যথা তুলনামূলকভাবে পুরো মাথাজুড়ে হালকা ব্যথা হিসেবে প্রকাশ পায় এবং পানি পান করলে অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. রূপালী মেহরোত্রা জানান, মাইগ্রেন শুরু হলে রোগীকে ঠান্ডা ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ট্রিপটানস বা ন্যাপ্রোক্সেন সোডিয়াম জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, সাধারণত ২.৫ থেকে ৩ লিটার, গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকা, নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণ, হালকা ও পানিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ঘুম বজায় রাখা মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ইউভি-সুরক্ষিত পোশাক ব্যবহার এবং সূর্যের তীব্র আলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, যদি তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে তা সাধারণ মাইগ্রেন নয় এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম আবহাওয়ায় জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই মাইগ্রেনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ