সকালের এক কাপ চা কিংবা কফি দিয়ে দিন শুরু করার পরও অফিসে বসে কিছুক্ষণ না যেতেই চোখ ভারী হয়ে আসে? বারবার হাই ওঠে, কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, মনে হয় একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলেই যেন স্বস্তি মিলবে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত।
অনেকেই এটিকে অলসতা বা রাত জাগার ফল বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এতটা সহজ নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলেও সারাদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে শুধু পুষ্টিঘাটতিই নয়, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা, থাইরয়েডের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া কিংবা রক্তস্বল্পতার মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও এর পেছনে দায়ী হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ভিটামিন বি-১২ শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে সারাক্ষণ ক্লান্তি, দুর্বলতা, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা স্মৃতিশক্তির ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষাই নয়, শরীরের শক্তি ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্যও প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়া বা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকলে এই ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আয়রন ভিটামিন নয়, তবে শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তখন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে না পারায় ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং ঘন ঘন ঘুম পেতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
ফোলেট নতুন কোষ তৈরি এবং রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ঘাটতি হলে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, সহজেই ক্লান্তি আসে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ম্যাগনেসিয়াম শরীরের শতাধিক জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এই খনিজের ঘাটতি হলে পেশিতে দুর্বলতা, অবসাদ, ঘুমের সমস্যা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
যদি প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও নিয়মিত অফিসে বসে ঘুম পায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি না কমে, কিংবা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে নিজে থেকে ভিটামিন খাওয়া শুরু করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
অফিসে বারবার ঘুম পাওয়া মানেই যে আপনি অলস, এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় এটি শরীরের একটি নীরব সতর্কবার্তা, যা জানিয়ে দেয় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই অতিরিক্ত চা-কফি দিয়ে ক্লান্তি ঢাকার চেষ্টা না করে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক জীবনযাপন, সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শই আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
সকালের এক কাপ চা কিংবা কফি দিয়ে দিন শুরু করার পরও অফিসে বসে কিছুক্ষণ না যেতেই চোখ ভারী হয়ে আসে? বারবার হাই ওঠে, কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, মনে হয় একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলেই যেন স্বস্তি মিলবে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত।
অনেকেই এটিকে অলসতা বা রাত জাগার ফল বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এতটা সহজ নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলেও সারাদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে শুধু পুষ্টিঘাটতিই নয়, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা, থাইরয়েডের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া কিংবা রক্তস্বল্পতার মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও এর পেছনে দায়ী হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ভিটামিন বি-১২ শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে সারাক্ষণ ক্লান্তি, দুর্বলতা, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা স্মৃতিশক্তির ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষাই নয়, শরীরের শক্তি ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্যও প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়া বা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকলে এই ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আয়রন ভিটামিন নয়, তবে শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তখন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে না পারায় ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং ঘন ঘন ঘুম পেতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
ফোলেট নতুন কোষ তৈরি এবং রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ঘাটতি হলে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, সহজেই ক্লান্তি আসে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ম্যাগনেসিয়াম শরীরের শতাধিক জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এই খনিজের ঘাটতি হলে পেশিতে দুর্বলতা, অবসাদ, ঘুমের সমস্যা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
যদি প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও নিয়মিত অফিসে বসে ঘুম পায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি না কমে, কিংবা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে নিজে থেকে ভিটামিন খাওয়া শুরু করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
অফিসে বারবার ঘুম পাওয়া মানেই যে আপনি অলস, এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় এটি শরীরের একটি নীরব সতর্কবার্তা, যা জানিয়ে দেয় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই অতিরিক্ত চা-কফি দিয়ে ক্লান্তি ঢাকার চেষ্টা না করে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক জীবনযাপন, সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শই আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন