ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কর্পোরেট কর্মীদের জন্য লাঞ্চের আদর্শ সময় কোনটি?


সোহেল রানা প্রধান
সোহেল রানা প্রধান সাব-এডিটর
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬

কর্পোরেট কর্মীদের জন্য লাঞ্চের আদর্শ সময় কোনটি?
ছবি: সংগৃহীত

কর্পোরেট অফিসে দুপুরের খাবার অনেকের কাছেই দিনের একটি সাধারণ রুটিন। কিন্তু বাস্তবে এটি শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়, বরং সারাদিনের কর্মক্ষমতা, মনোযোগ এবং শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবু কাজের চাপ, একের পর এক মিটিং কিংবা নির্ধারিত সময়ের অভাবে অনেক কর্মী দুপুরের খাবার দেরিতে খান, আবার কেউ কেউ একেবারেই খাবার বাদ দেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে সাধারণত দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে লাঞ্চ বিরতি দেওয়া হয়। কোথাও এই বিরতি ৩০ মিনিট, আবার কোথাও এক ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা ও কাজের ধরন অনুযায়ী সময়সূচিতে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে নাশতা করা হয়, তাহলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়াই সবচেয়ে উপযোগী। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে, অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হয় না এবং বিকেলের কাজেও ক্লান্তি কম অনুভূত হয়। পাশাপাশি মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতাও বজায় থাকে।

অন্যদিকে দুপুর ৩টা বা ৪টার পর খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, গ্যাস, অস্বস্তি এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের খাবারে অবশ্যই সুষম খাদ্য রাখা উচিত। ভাত বা রুটির সঙ্গে মাছ কিংবা মাংস, ডাল, পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং সালাদ থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। নিয়মিত অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বা ফাস্টফুড খাওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

এ ছাড়া খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজমে সহায়তা করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যকর দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ, মানসিক সতেজতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও দুপুরের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বের করে নেওয়া নিজের সুস্থতার জন্য একটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কর্পোরেট কর্মীদের জন্য লাঞ্চের আদর্শ সময় কোনটি?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

কর্পোরেট অফিসে দুপুরের খাবার অনেকের কাছেই দিনের একটি সাধারণ রুটিন। কিন্তু বাস্তবে এটি শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়, বরং সারাদিনের কর্মক্ষমতা, মনোযোগ এবং শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবু কাজের চাপ, একের পর এক মিটিং কিংবা নির্ধারিত সময়ের অভাবে অনেক কর্মী দুপুরের খাবার দেরিতে খান, আবার কেউ কেউ একেবারেই খাবার বাদ দেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে সাধারণত দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে লাঞ্চ বিরতি দেওয়া হয়। কোথাও এই বিরতি ৩০ মিনিট, আবার কোথাও এক ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা ও কাজের ধরন অনুযায়ী সময়সূচিতে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে নাশতা করা হয়, তাহলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়াই সবচেয়ে উপযোগী। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে, অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হয় না এবং বিকেলের কাজেও ক্লান্তি কম অনুভূত হয়। পাশাপাশি মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতাও বজায় থাকে।

অন্যদিকে দুপুর ৩টা বা ৪টার পর খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, গ্যাস, অস্বস্তি এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের খাবারে অবশ্যই সুষম খাদ্য রাখা উচিত। ভাত বা রুটির সঙ্গে মাছ কিংবা মাংস, ডাল, পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং সালাদ থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। নিয়মিত অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বা ফাস্টফুড খাওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

এ ছাড়া খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজমে সহায়তা করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যকর দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ, মানসিক সতেজতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও দুপুরের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বের করে নেওয়া নিজের সুস্থতার জন্য একটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ