জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন, সরকার গঠন ও বিরোধী দল নির্বাচন সবকিছুই হলেও জনগণ এখনো প্রত্যাশিত সংস্কার পায়নি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে। জনগণের রক্তের দেনা ও আত্মত্যাগের ঋণ এখনো শোধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এনসিপির পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। এই দিনটি জাতিগত শেকড় অনুসন্ধানেরও দিন। বঙ্গাব্দের সূচনা হয় বৈশাখের প্রথম দিনের মধ্য দিয়ে। এ উপলক্ষে এনসিপির সাংস্কৃতিক সেলের পক্ষ থেকে ছোট পরিসরে গান, র্যালি, স্টল ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বছরের দিনে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আরও বড়। তরুণ প্রজন্ম যে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে হালখাতা খোলার ঐতিহ্য রয়েছে, যেখানে পুরোনো বকেয়া পরিশোধ করা হয়। জাতীয় জীবনেও যেসব বকেয়া রয়েছে, সেগুলো পরিশোধ করতে হবে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ বাস্তবায়ন করে সেই বকেয়া পরিশোধ করা হোক।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু এখনো বহু সংস্কার থমকে আছে। জনগণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক, সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চেয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার অপূর্ণই থেকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই সনদকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করছে কিংবা গণরায় মানতে চাচ্ছে না, তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। যেসব উদ্যোগ জনগণের কল্যাণে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে বিল আকারে এনে আইনে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগের ঘটনায় বোঝা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা ছিল, সেগুলোও বাধার মুখে পড়ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও নিরপেক্ষ করার পরিবর্তে আবারও প্রভাববলয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সংস্কৃতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের শিকার হয়েছিল এবং উৎসবগুলোও রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় চলে গিয়েছিল। এখন সেই উৎসবগুলোকে নাগরিক উৎসব হিসেবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক। এই চেতনাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই ভূখণ্ড শুধু বাংলাদেশের মানুষের নয়, পৃথিবীর সব বাঙালির সাংস্কৃতিক ঠিকানা। বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির ধারক হিসেবে বাংলাদেশকে ঐতিহ্যের নেতৃত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইও চলমান থাকবে। নতুন বছরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অসমাপ্ত সংস্কার সম্পন্ন করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।
#আরএ
বিষয় : সংস্কার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন, সরকার গঠন ও বিরোধী দল নির্বাচন সবকিছুই হলেও জনগণ এখনো প্রত্যাশিত সংস্কার পায়নি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে। জনগণের রক্তের দেনা ও আত্মত্যাগের ঋণ এখনো শোধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এনসিপির পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। এই দিনটি জাতিগত শেকড় অনুসন্ধানেরও দিন। বঙ্গাব্দের সূচনা হয় বৈশাখের প্রথম দিনের মধ্য দিয়ে। এ উপলক্ষে এনসিপির সাংস্কৃতিক সেলের পক্ষ থেকে ছোট পরিসরে গান, র্যালি, স্টল ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বছরের দিনে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আরও বড়। তরুণ প্রজন্ম যে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে হালখাতা খোলার ঐতিহ্য রয়েছে, যেখানে পুরোনো বকেয়া পরিশোধ করা হয়। জাতীয় জীবনেও যেসব বকেয়া রয়েছে, সেগুলো পরিশোধ করতে হবে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ বাস্তবায়ন করে সেই বকেয়া পরিশোধ করা হোক।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু এখনো বহু সংস্কার থমকে আছে। জনগণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক, সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চেয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার অপূর্ণই থেকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই সনদকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করছে কিংবা গণরায় মানতে চাচ্ছে না, তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। যেসব উদ্যোগ জনগণের কল্যাণে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে বিল আকারে এনে আইনে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগের ঘটনায় বোঝা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা ছিল, সেগুলোও বাধার মুখে পড়ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও নিরপেক্ষ করার পরিবর্তে আবারও প্রভাববলয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সংস্কৃতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের শিকার হয়েছিল এবং উৎসবগুলোও রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় চলে গিয়েছিল। এখন সেই উৎসবগুলোকে নাগরিক উৎসব হিসেবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক। এই চেতনাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই ভূখণ্ড শুধু বাংলাদেশের মানুষের নয়, পৃথিবীর সব বাঙালির সাংস্কৃতিক ঠিকানা। বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির ধারক হিসেবে বাংলাদেশকে ঐতিহ্যের নেতৃত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইও চলমান থাকবে। নতুন বছরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অসমাপ্ত সংস্কার সম্পন্ন করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন