ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজ সংকটে তেলের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছাতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ সংকটে তেলের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছাতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বড় ধরনের উর্ধ্বমুখী চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, “এই সময়েই তেলের দাম পিক করতে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য ব্যাঘাতও আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ক্রিস রাইট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এতে সময় লাগবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, দ্রুত দামে পতন ঘটবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও জানান, গ্রীষ্মের মধ্যে তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে—এমন প্রত্যাশাও অত্যন্ত আশাবাদী। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে দাম উঁচু পর্যায়েই থাকতে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে একাধিকবার বাধার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে তা শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যেই তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক দেশ তাদের কৌশলগত মজুদ ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে নৌ নিরাপত্তা জোরদার করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত এই সংকট বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

#আরএ

বিষয় : তেলের_বাজার হরমুজ প্রণালী

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


হরমুজ সংকটে তেলের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছাতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বড় ধরনের উর্ধ্বমুখী চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, “এই সময়েই তেলের দাম পিক করতে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য ব্যাঘাতও আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ক্রিস রাইট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এতে সময় লাগবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, দ্রুত দামে পতন ঘটবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও জানান, গ্রীষ্মের মধ্যে তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে—এমন প্রত্যাশাও অত্যন্ত আশাবাদী। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে দাম উঁচু পর্যায়েই থাকতে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে একাধিকবার বাধার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে তা শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যেই তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক দেশ তাদের কৌশলগত মজুদ ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে নৌ নিরাপত্তা জোরদার করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত এই সংকট বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ