ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি'র গণসংযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি'র গণসংযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন, অপু, ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হক মাসুদ, মাসউফা আফরোজ হক সুচি, তারিক আহমদ, আব্দুস সালাম তুহিন, সুভান মাস্টার এবং আসরাফ আলিম। মনোনয়ন প্রার্থীরা গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির পক্ষে গণসংযোগ করছেন।

মাঠ পর্যায়ে নয়জন প্রার্থী গণসংযোগ করলেও অনেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর মাঠে এসেছেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁদের সেরকম ভূমিকা ছিল না। গত ৪ নভেম্বর ২৫ তারিখে আগামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জনপ্রিয় নেতা মরহুম সৈয়দ মনজুর হোসেনের সংসদীয় আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত)। দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের ক্রান্তিলগ্নে সৈয়দ মনজুর হোসেন বিএনপির পাশে ছিলেন। মরহুম সৈয়দ মনজুর হোসেন নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং জনগণের জন্য তাঁর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কারণে সবার কাছে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একবার মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পান। মরহুম সৈয়দ মনজুর হোসেন এমপি থাকাকালীন ২০০১ সাল থেকে তাঁর সুযোগ্য ভাতিজা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন তাঁর পাশে থেকে এলাকার মানুষের আপদ-বিপদে ও বিভিন্ন জনদুর্ভোগ-সমস্যা সমাধানে কাজ করে থাকেন। এলাকার উন্নয়নে ও আপদ-বিপদে তিনি কর্মীদের পাশে ছিলেন। সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলনের নিজস্ব পরিচিতি ও সুনাম অপরিসীম।

১৭ বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন প্রোগ্রামে সামনে কাতারে ছিলেন সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন। বিভিন্ন মিটিং ও মিছিলে তিনি তাঁর কর্মীদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন। যা অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের ক্ষেত্রে তেমন দেখা যায়নি। ত্যাগী নেতা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন নেতাকর্মীদের আপদ-বিপদে, অভাব-অনটনে বা রাজনৈতিক মামলায় সাহায্য সহযোগিতা করতেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ২০১৮ সালে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ি লালমনিরহাট। তিনি সবসময় ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং তাঁকে এলাকাতে তেমন দেখা যেত না। তিনি তাঁর নিজস্ব ১০-১২ জনকে নিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। বিএনপির ত্যাগী নেতাদের সাথে তাঁর তেমন যোগাযোগ থাকত না। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম না করেও মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে এই আসনে যারা রক্তের বিনিময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করল, তারা যদি তাদের জনপ্রতিনিধিকে পাশে না পায়, তাহলে দলের সংগঠনের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। গত ৪ নভেম্বর দলের হাইকমান্ড আলহাজ আমিনুল ইসলামকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কমবেশি তিন উপজেলায় সমাবেশ, মিছিল, মশাল মিছিল, রেল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলমান আছে। অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দাবি, যাঁর বাড়ি লালমনিরহাট, যিনি সব সময় এলাকাতে পাওয়া যান না, সংসদে দলের দুর্দিনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী বক্তব্য দেননি, তিনি আবার কীভাবে দলের মনোনয়ন পান? তাঁর মনোনয়ন প্রার্থীতা বাতিল করা হোক—এমনটাই দাবি তাঁদের।

এই তিন উপজেলা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে আলহাজ আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে যেকোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দিলে ত্যাগী নেতারা মেনে নিবেন। ত্যাগী নেতাদের দাবি, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি হারাতে পারে যদি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে দল অন্য কাউকে না দেয়। তারা বলছেন, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে দল যাকে দেবে, কর্মীরা তাকে মেনে নিবে এবং দলের পক্ষে কাজ করবে। যদি প্রার্থী পরিবর্তন না করে, ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনোভাবে মানবে না। ফলে এই আসনটি হারাতে পারে। এদিকে চলমান আন্দোলনে বর্তমানে এমপি গুন্ডাবাহিনীরা নাচোল বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেছে এবং গোমস্তাপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা করার প্রতিবাদে সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল সাংবাদিক এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের সকল প্রচার-প্রচারণা বয়কট করেছে।

এদিকে দলের ত্যাগী নেতা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন বিএনপির সকল কর্মীদের পাশে থাকা এবং জনগণের দুঃখ-সুখের সাথী হিসেবে কাজ করে থাকেন। সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন লাগাতার তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির ৩১ দফা লিফলেট ও দলের পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে পাঁচবারের সংসদ সদস্য সৈয়দ মনজুর হোসেনের ভাতিজা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন সর্বক্ষণিক তিন উপজেলার হাট-বাজার, স্কুল-বাজার, পাড়া-মহল্লায় জনপ্রিয়তায় শীর্ষে আছেন। তিন উপজেলার দাবি, সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের যোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করে নতুন করে মনোনয়ন দেওয়া হোক। বিএনপি কর্মীদের দাবি, যে নেতা সব সময় জনগণের পাশে বা কর্মীদের পাশে থাকে, সে মনোনয়ন পাওয়ার একমাত্র ব্যক্তি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন। রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নাম বিএনপির নেতা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন। তাঁর জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তরুণ প্রজন্ম ও প্রবীণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের মতে, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একজন অভিভাবকের মতোই পাশে থেকে কাজ করছেন। মানুষের দুঃসময়ে তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কর্মী-সমর্থকদের রক্ষা করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান তারা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মামলা-হামলার মধ্যেও তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে থেকেছেন। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন দমন-পীড়নের শিকার হন, তখনও তিনি সাহসিকতার সাথে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রতিটি এলাকায় সৈয়দ আতাউর হোসেনের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির দুর্দিনে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে থাকার কারণে এবং তাঁর পরিবার রাজনৈতিক পরিবারের হওয়ায় তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় জনমত: তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন এক জনপ্রতিনিধি চান, যিনি সত্যিকারের অর্থে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করবেন। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, অতীতে তাঁর উদ্যোগে তারা নানাভাবে উপকৃত হয়েছেন। তরুণ ভোটাররা মনে করেন, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁর রয়েছে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। নারী ভোটারদের মতে, তিনি সবসময় সমাজে নারী শিক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ আসনে বিএনপি শক্তিশালীভাবে মাঠে থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে। সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলনের জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও অবদান এবং জনগণের প্রত্যাশার কারণে তিনি এই আসনে বিএনপির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটের মাঠে সবচেয়ে আলোচিত নাম তাঁর রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনে তিনি হবেন জনগণের প্রধান ভরসা—এমনটাই আশা করছেন তাঁর কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি'র গণসংযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন, অপু, ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হক মাসুদ, মাসউফা আফরোজ হক সুচি, তারিক আহমদ, আব্দুস সালাম তুহিন, সুভান মাস্টার এবং আসরাফ আলিম। মনোনয়ন প্রার্থীরা গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির পক্ষে গণসংযোগ করছেন।

মাঠ পর্যায়ে নয়জন প্রার্থী গণসংযোগ করলেও অনেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর মাঠে এসেছেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁদের সেরকম ভূমিকা ছিল না। গত ৪ নভেম্বর ২৫ তারিখে আগামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জনপ্রিয় নেতা মরহুম সৈয়দ মনজুর হোসেনের সংসদীয় আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত)। দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের ক্রান্তিলগ্নে সৈয়দ মনজুর হোসেন বিএনপির পাশে ছিলেন। মরহুম সৈয়দ মনজুর হোসেন নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং জনগণের জন্য তাঁর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কারণে সবার কাছে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একবার মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পান। মরহুম সৈয়দ মনজুর হোসেন এমপি থাকাকালীন ২০০১ সাল থেকে তাঁর সুযোগ্য ভাতিজা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন তাঁর পাশে থেকে এলাকার মানুষের আপদ-বিপদে ও বিভিন্ন জনদুর্ভোগ-সমস্যা সমাধানে কাজ করে থাকেন। এলাকার উন্নয়নে ও আপদ-বিপদে তিনি কর্মীদের পাশে ছিলেন। সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলনের নিজস্ব পরিচিতি ও সুনাম অপরিসীম।

১৭ বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন প্রোগ্রামে সামনে কাতারে ছিলেন সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন। বিভিন্ন মিটিং ও মিছিলে তিনি তাঁর কর্মীদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন। যা অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের ক্ষেত্রে তেমন দেখা যায়নি। ত্যাগী নেতা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন নেতাকর্মীদের আপদ-বিপদে, অভাব-অনটনে বা রাজনৈতিক মামলায় সাহায্য সহযোগিতা করতেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ২০১৮ সালে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ি লালমনিরহাট। তিনি সবসময় ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং তাঁকে এলাকাতে তেমন দেখা যেত না। তিনি তাঁর নিজস্ব ১০-১২ জনকে নিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। বিএনপির ত্যাগী নেতাদের সাথে তাঁর তেমন যোগাযোগ থাকত না। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম না করেও মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে এই আসনে যারা রক্তের বিনিময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করল, তারা যদি তাদের জনপ্রতিনিধিকে পাশে না পায়, তাহলে দলের সংগঠনের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। গত ৪ নভেম্বর দলের হাইকমান্ড আলহাজ আমিনুল ইসলামকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কমবেশি তিন উপজেলায় সমাবেশ, মিছিল, মশাল মিছিল, রেল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলমান আছে। অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দাবি, যাঁর বাড়ি লালমনিরহাট, যিনি সব সময় এলাকাতে পাওয়া যান না, সংসদে দলের দুর্দিনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী বক্তব্য দেননি, তিনি আবার কীভাবে দলের মনোনয়ন পান? তাঁর মনোনয়ন প্রার্থীতা বাতিল করা হোক—এমনটাই দাবি তাঁদের।

এই তিন উপজেলা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে আলহাজ আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে যেকোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দিলে ত্যাগী নেতারা মেনে নিবেন। ত্যাগী নেতাদের দাবি, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি হারাতে পারে যদি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে দল অন্য কাউকে না দেয়। তারা বলছেন, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে দল যাকে দেবে, কর্মীরা তাকে মেনে নিবে এবং দলের পক্ষে কাজ করবে। যদি প্রার্থী পরিবর্তন না করে, ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনোভাবে মানবে না। ফলে এই আসনটি হারাতে পারে। এদিকে চলমান আন্দোলনে বর্তমানে এমপি গুন্ডাবাহিনীরা নাচোল বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেছে এবং গোমস্তাপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা করার প্রতিবাদে সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল সাংবাদিক এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের সকল প্রচার-প্রচারণা বয়কট করেছে।

এদিকে দলের ত্যাগী নেতা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন বিএনপির সকল কর্মীদের পাশে থাকা এবং জনগণের দুঃখ-সুখের সাথী হিসেবে কাজ করে থাকেন। সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন লাগাতার তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির ৩১ দফা লিফলেট ও দলের পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে পাঁচবারের সংসদ সদস্য সৈয়দ মনজুর হোসেনের ভাতিজা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন সর্বক্ষণিক তিন উপজেলার হাট-বাজার, স্কুল-বাজার, পাড়া-মহল্লায় জনপ্রিয়তায় শীর্ষে আছেন। তিন উপজেলার দাবি, সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের যোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করে নতুন করে মনোনয়ন দেওয়া হোক। বিএনপি কর্মীদের দাবি, যে নেতা সব সময় জনগণের পাশে বা কর্মীদের পাশে থাকে, সে মনোনয়ন পাওয়ার একমাত্র ব্যক্তি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন। রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নাম বিএনপির নেতা সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন। তাঁর জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তরুণ প্রজন্ম ও প্রবীণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের মতে, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একজন অভিভাবকের মতোই পাশে থেকে কাজ করছেন। মানুষের দুঃসময়ে তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কর্মী-সমর্থকদের রক্ষা করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান তারা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মামলা-হামলার মধ্যেও তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে থেকেছেন। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন দমন-পীড়নের শিকার হন, তখনও তিনি সাহসিকতার সাথে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রতিটি এলাকায় সৈয়দ আতাউর হোসেনের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির দুর্দিনে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে থাকার কারণে এবং তাঁর পরিবার রাজনৈতিক পরিবারের হওয়ায় তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় জনমত: তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন এক জনপ্রতিনিধি চান, যিনি সত্যিকারের অর্থে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করবেন। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, অতীতে তাঁর উদ্যোগে তারা নানাভাবে উপকৃত হয়েছেন। তরুণ ভোটাররা মনে করেন, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁর রয়েছে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। নারী ভোটারদের মতে, তিনি সবসময় সমাজে নারী শিক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ আসনে বিএনপি শক্তিশালীভাবে মাঠে থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে। সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলনের জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও অবদান এবং জনগণের প্রত্যাশার কারণে তিনি এই আসনে বিএনপির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটের মাঠে সবচেয়ে আলোচিত নাম তাঁর রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনে তিনি হবেন জনগণের প্রধান ভরসা—এমনটাই আশা করছেন তাঁর কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ