পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট ও আশপাশের এলাকায়।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২১ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকায়। ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় কম্পন অনুভূত হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালবেলা হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পনে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ভবন কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা যায়।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল একই এলাকায় ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে কম্পনটি হয় এবং সিলেটসহ আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই অঞ্চলে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সংলগ্ন অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যে কম্পন সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশের সিলেট বিভাগেও পড়ে। ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, তবে এগুলো ভূত্বকের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে নগর এলাকায় ভবন নিরাপত্তা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বড় শহরগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন নির্মাণ এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নকশার অভাব বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে সারা দেশে ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা এখনো স্মরণীয়। সেই অভিজ্ঞতার পরও অনেক এলাকায় সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প ঠেকানোর কোনো উপায় নেই, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এজন্য পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, নতুন ভবনে বিল্ডিং কোড মানা, নিয়মিত মহড়া পরিচালনা, স্কুল-কলেজ ও অফিসে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
রোববারের ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘন ঘন কম্পন দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও নগর অঞ্চলে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
#আরএ
বিষয় : ভূমিকম্প

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট ও আশপাশের এলাকায়।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২১ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকায়। ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় কম্পন অনুভূত হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালবেলা হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পনে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ভবন কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা যায়।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল একই এলাকায় ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে কম্পনটি হয় এবং সিলেটসহ আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই অঞ্চলে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সংলগ্ন অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যে কম্পন সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশের সিলেট বিভাগেও পড়ে। ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, তবে এগুলো ভূত্বকের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে নগর এলাকায় ভবন নিরাপত্তা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বড় শহরগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন নির্মাণ এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নকশার অভাব বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে সারা দেশে ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা এখনো স্মরণীয়। সেই অভিজ্ঞতার পরও অনেক এলাকায় সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প ঠেকানোর কোনো উপায় নেই, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এজন্য পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, নতুন ভবনে বিল্ডিং কোড মানা, নিয়মিত মহড়া পরিচালনা, স্কুল-কলেজ ও অফিসে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
রোববারের ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘন ঘন কম্পন দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও নগর অঞ্চলে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন