"সিলটি ফড়গনাতিত নববর্ষ ১৪৩৬ উদযাপন"কে কেন্দ্র করে সিলেটে “সিলটি ভাষা স্বীকৃতি আন্দোলন” সংগঠনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
দুপুরের পর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা একত্রিত হয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারীরা “সিলটি ভাষার স্বীকৃতি চাই”, “নাগরী লিপির সংরক্ষণ চাই”সহ বিভিন্ন দাবিনির্ভর স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে শেষ হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
মিছিল শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা এবং এতে বক্তব্য রাখেন সিলটি নাগরী লিপি স্কুলের শিক্ষক মো. সাজিদ মিয়া, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম দীনেশ, সাংবাদিক সুয়েজ হোসেন, সাংবাদিক মো. আমীর হোসেন সোহাগ, ভাষাবিদ মো. দিলওয়ার হুছেন এবং ভাষাবিদ ড. মোস্তফা আহমেদ মোস্তাকসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সিলেট অঞ্চলের নিজস্ব ভাষাগত ঐতিহ্য হিসেবে সিলটি ভাষা ও নাগরী লিপি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই ভাষা ও লিপি আজ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা মনে করেন, দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা রক্ষায় সিলটি নাগরী লিপিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সিলটি নাগরী লিপি শুধু একটি ভাষার মাধ্যম নয়, এটি সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই লিপিতে রচিত অসংখ্য ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যকর্ম আজও গবেষণার জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বক্তারা এ লিপির সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত সংগঠনের সদস্যরা- ইরতিজা সাইদ, মো. হাবিবুর রহমান, খন্দকার শাফিউল ইসলাম, তোহা মির্জা, আনোয়ার হোসেন, মো. জাহিদুল, খায়রুল আলম সুমন, ইব্রাহিম হোসন, তানভির চৌধুরী, রাহাত তরফদার, আশরাফ হোসেন, রিজভী আহমেদ ও সাব্বির হোসেন- তাদের বক্তব্যে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা জানান, সিলটি ভাষা ও নাগরী লিপির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ে তারা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সার্বিকভাবে, এ আয়োজনটি সিলেট অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে নতুন করে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
"সিলটি ফড়গনাতিত নববর্ষ ১৪৩৬ উদযাপন"কে কেন্দ্র করে সিলেটে “সিলটি ভাষা স্বীকৃতি আন্দোলন” সংগঠনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
দুপুরের পর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা একত্রিত হয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারীরা “সিলটি ভাষার স্বীকৃতি চাই”, “নাগরী লিপির সংরক্ষণ চাই”সহ বিভিন্ন দাবিনির্ভর স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে শেষ হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
মিছিল শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা এবং এতে বক্তব্য রাখেন সিলটি নাগরী লিপি স্কুলের শিক্ষক মো. সাজিদ মিয়া, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম দীনেশ, সাংবাদিক সুয়েজ হোসেন, সাংবাদিক মো. আমীর হোসেন সোহাগ, ভাষাবিদ মো. দিলওয়ার হুছেন এবং ভাষাবিদ ড. মোস্তফা আহমেদ মোস্তাকসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সিলেট অঞ্চলের নিজস্ব ভাষাগত ঐতিহ্য হিসেবে সিলটি ভাষা ও নাগরী লিপি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই ভাষা ও লিপি আজ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা মনে করেন, দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা রক্ষায় সিলটি নাগরী লিপিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সিলটি নাগরী লিপি শুধু একটি ভাষার মাধ্যম নয়, এটি সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই লিপিতে রচিত অসংখ্য ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যকর্ম আজও গবেষণার জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বক্তারা এ লিপির সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত সংগঠনের সদস্যরা- ইরতিজা সাইদ, মো. হাবিবুর রহমান, খন্দকার শাফিউল ইসলাম, তোহা মির্জা, আনোয়ার হোসেন, মো. জাহিদুল, খায়রুল আলম সুমন, ইব্রাহিম হোসন, তানভির চৌধুরী, রাহাত তরফদার, আশরাফ হোসেন, রিজভী আহমেদ ও সাব্বির হোসেন- তাদের বক্তব্যে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা জানান, সিলটি ভাষা ও নাগরী লিপির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ে তারা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সার্বিকভাবে, এ আয়োজনটি সিলেট অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে নতুন করে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন