ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৪ সাবেক মেয়র আরিফুল হকের ভোটের বাজিমাত



জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৪ সাবেক মেয়র আরিফুল হকের ভোটের বাজিমাত
ছবি: দৈনিক নববাণী

পুণ্যভুমি খ্যাত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পর পর দুবার নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।


এবার সিলেট-৪ জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) সীমান্ত ঘেঁষা আসন। এই আসনটিতেও এবার ভোটের ঝড় তুলে বিজয়ী হয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেটে এক নামেই তার পরিচয়। কেউ ডাকেন ‘আরিফ ভাই’। কেউবা বলেন ‘মেয়র সাব’।


এরপরই যার চেহারা ভেসে ওঠে, তিনি আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার (বর্তমান পদের নাম কাউন্সিলর) হিসেবে প্রথম জনপ্রতিনিধি হন। এরপর টানা দুইবার ছিলেন মেয়র। 


এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি (সংসদ সদস্য) হয়েছেন।


সিলেট সিটি করপোরেশনের দু’বারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এ আসনে দলটির চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এরপর সংসদ নির্বাচনে নামবেন কিনা- এটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর আগে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার হাত থেকেই নিলেন সিলেট-৪ আসনে বিএনপির টিকিট। প্রথম নির্বাচনেই তিনি বাজিমাত করে ফেলেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদীন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট পেয়েছেন। সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। 


জানা গেছে, সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরিফুল হক। তবে এ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এর আগে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে সিলেট-১-এর পরিবর্তে বেশ কয়েকবার সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বললেও তিনি রাজি হননি।


গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের হাইকমান্ড তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে নির্দেশনা দেন দলটির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়া। পরে ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। আরিফুল হক বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।


এ ছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।


তবে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এবং তখনকার বিএনপি-দলীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে মূলত তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।


২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফ। সেই সঙ্গে তিনি তখন সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।


পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আরিফ।


এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।


নির্বাচিত হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন এর ঋণ শোধ করার মতো কোনো ক্ষমতা আমার নেই। তবে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সুখে-দুঃখে সিলেট-৪ আসনের মানুষের পাশে আমৃত্যু থাকব। আমি নিজেও কল্পনা করতে পারিনি মাত্র দুই মাস কাজ করে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষ আমাকে আস্থায় নিবে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৪ সাবেক মেয়র আরিফুল হকের ভোটের বাজিমাত

প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পুণ্যভুমি খ্যাত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পর পর দুবার নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।


এবার সিলেট-৪ জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) সীমান্ত ঘেঁষা আসন। এই আসনটিতেও এবার ভোটের ঝড় তুলে বিজয়ী হয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেটে এক নামেই তার পরিচয়। কেউ ডাকেন ‘আরিফ ভাই’। কেউবা বলেন ‘মেয়র সাব’।


এরপরই যার চেহারা ভেসে ওঠে, তিনি আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার (বর্তমান পদের নাম কাউন্সিলর) হিসেবে প্রথম জনপ্রতিনিধি হন। এরপর টানা দুইবার ছিলেন মেয়র। 


এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি (সংসদ সদস্য) হয়েছেন।


সিলেট সিটি করপোরেশনের দু’বারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এ আসনে দলটির চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এরপর সংসদ নির্বাচনে নামবেন কিনা- এটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর আগে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার হাত থেকেই নিলেন সিলেট-৪ আসনে বিএনপির টিকিট। প্রথম নির্বাচনেই তিনি বাজিমাত করে ফেলেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদীন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট পেয়েছেন। সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। 


জানা গেছে, সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরিফুল হক। তবে এ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এর আগে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে সিলেট-১-এর পরিবর্তে বেশ কয়েকবার সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বললেও তিনি রাজি হননি।


গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের হাইকমান্ড তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে নির্দেশনা দেন দলটির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়া। পরে ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। আরিফুল হক বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।


এ ছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।


তবে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এবং তখনকার বিএনপি-দলীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে মূলত তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।


২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফ। সেই সঙ্গে তিনি তখন সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।


পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আরিফ।


এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।


নির্বাচিত হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন এর ঋণ শোধ করার মতো কোনো ক্ষমতা আমার নেই। তবে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সুখে-দুঃখে সিলেট-৪ আসনের মানুষের পাশে আমৃত্যু থাকব। আমি নিজেও কল্পনা করতে পারিনি মাত্র দুই মাস কাজ করে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষ আমাকে আস্থায় নিবে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ