নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, উল্লাপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান ততই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দল থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর যোগদানে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
প্রথমেই দুর্গানগর ইউনিয়নের কিছু বিএনপি নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন। এরপর উল্লাপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহাদত হোসেন খোকন জাসদের প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হন। তারা দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের মাধ্যমে দলে যোগদান করেন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ফুলের মালা গ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন।
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও উল্লাপাড়ার রাজনৈতিক মাঠ ইতোমধ্যে সরগরম। বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের প্রচারণা চললেও মূল লড়াইটি হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইউনিয়ন ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার এবং প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দলের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা, দায়িত্ববোধ ও দরদের ছোঁয়া বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য, যা ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক পথসভা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হলেও উল্লেখযোগ্য সভা হয় লাহিড়ী মোহনপুর ও উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে। পড়ন্ত বিকেলে চলনবিল অধ্যুষিত এ প্রত্যন্ত এলাকায় বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বক্তব্য রাখেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে শিক্ষিত-অশিক্ষিত প্রায় তিন কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে যুবকদের যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিচ্ছে, ফলে পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ চিকিৎসা ব্যয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে এতেকরে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষগুলো আরো নিঃস্ব হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জামায়াতে ইসলাম স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও সরকারি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এখন কেবল একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়; এটি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও পাহাড়ি—সব জনগোষ্ঠীর কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সবার উন্মুক্ত ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শাফিউল শাওন
০১৬১৪৪৬৬৬২৭

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, উল্লাপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান ততই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দল থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর যোগদানে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
প্রথমেই দুর্গানগর ইউনিয়নের কিছু বিএনপি নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন। এরপর উল্লাপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহাদত হোসেন খোকন জাসদের প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হন। তারা দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের মাধ্যমে দলে যোগদান করেন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ফুলের মালা গ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন।
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও উল্লাপাড়ার রাজনৈতিক মাঠ ইতোমধ্যে সরগরম। বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের প্রচারণা চললেও মূল লড়াইটি হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইউনিয়ন ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার এবং প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দলের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা, দায়িত্ববোধ ও দরদের ছোঁয়া বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য, যা ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক পথসভা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হলেও উল্লেখযোগ্য সভা হয় লাহিড়ী মোহনপুর ও উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে। পড়ন্ত বিকেলে চলনবিল অধ্যুষিত এ প্রত্যন্ত এলাকায় বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বক্তব্য রাখেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে শিক্ষিত-অশিক্ষিত প্রায় তিন কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে যুবকদের যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিচ্ছে, ফলে পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ চিকিৎসা ব্যয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে এতেকরে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষগুলো আরো নিঃস্ব হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জামায়াতে ইসলাম স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও সরকারি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এখন কেবল একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়; এটি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও পাহাড়ি—সব জনগোষ্ঠীর কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সবার উন্মুক্ত ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শাফিউল শাওন
০১৬১৪৪৬৬৬২৭

আপনার মতামত লিখুন