যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও অহংকার। সঠিক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে এবং নদীভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষা করা হবে। তিনি নীতিনির্ভর রাজনীতি, নারীর নিরাপত্তা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের যৌথ আয়োজনে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সীমানায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়াস্থ হেলিপ্যাড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
আমিরে জামায়াত বলেন, “তিস্তা থেকে হাইড্রো পাওয়ার হবে, এখানকার পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। আর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বছরের পর বছর হাজার-হাজার পরিবারকে নিঃস্ব হতে হবে না। আমরা কথা দিচ্ছি যে কোন মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। কারো লাল চোখ আমরা পরোয়া করবো না। আমার দেশ আগে, এ দেশের জনগণের স্বার্থ আগে। আমরা কারো স্বার্থে আঘাত দিবো না। কিন্তু আমাদের স্বার্থে কেউ এসে বাগরা দেবে তা আমরা মেনে নিবো না।”
আমিরে জামায়াত আরো বলেন,“ তোরাতো পালাক্রমে দেশ শাসন করলি, তা আমার দেশটাকে দেশ হিসাবে গড়লি না কেন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ তোমাদের দেখেছে ভাই, অনেক দেখেছে। এবার একটু বিশ্রামে যাও। এবার আমাদেরকে একটু সুযোগ দাও। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা বসন্তের কোকিল নয়, আমরা ইহজগতের বন্ধু, আর পরজগতে আল্লাহর কাছে বলি সেখানেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে রাখিও।”
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, “বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো সহ সকল শিল্পকলকারখানা চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ফিরিয়ে আনা হবে।”
এসময় আমিরে জামায়াত ১২ তারিখে প্রথম ভোটটি হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা যদি বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ৩৩ আসনে ১১ দলের আমাদের প্রার্থীদের উপহার দেন আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে, আল্লাহ সুস্থ রাখলে, আল্লাহ যদি আমাদের হাতে দেশ গড়ার সুযোগ দেন ইনশাআল্লাহ আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য আমরা লড়াই করে যাব। আপনাদের সাথে বেইমানি করব না। ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ হবে একটা নতুন সূর্য।
জনসভা স্থলে আমিরে জামায়াত আসার পূর্বেই জনসভাস্থলে তিস্তা অববাহিকার এলাকার নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৭টি সংসদীয় আসনের মানুষজন সকাল থেকে দলে দলে আসতে থাকেন। যা নিমিষেই জনসভাস্থল ছাড়িয়ে তিস্তা ব্যারাজের সড়ক পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তিস্তাপাড়ের জনসভা প্রস্তুতি কমিটির প্রধান লালমনিরহাট জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান, লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ্যাডঃ আব্দুল বাতেন, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৭টি আসনের প্রার্থী নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী ২ (সদর) আসনের প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী ৩ (জলঢাকা) আসনের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনের আব্দুল মুনতাকিম।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও অহংকার। সঠিক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে এবং নদীভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষা করা হবে। তিনি নীতিনির্ভর রাজনীতি, নারীর নিরাপত্তা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের যৌথ আয়োজনে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সীমানায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়াস্থ হেলিপ্যাড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
আমিরে জামায়াত বলেন, “তিস্তা থেকে হাইড্রো পাওয়ার হবে, এখানকার পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। আর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বছরের পর বছর হাজার-হাজার পরিবারকে নিঃস্ব হতে হবে না। আমরা কথা দিচ্ছি যে কোন মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। কারো লাল চোখ আমরা পরোয়া করবো না। আমার দেশ আগে, এ দেশের জনগণের স্বার্থ আগে। আমরা কারো স্বার্থে আঘাত দিবো না। কিন্তু আমাদের স্বার্থে কেউ এসে বাগরা দেবে তা আমরা মেনে নিবো না।”
আমিরে জামায়াত আরো বলেন,“ তোরাতো পালাক্রমে দেশ শাসন করলি, তা আমার দেশটাকে দেশ হিসাবে গড়লি না কেন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ তোমাদের দেখেছে ভাই, অনেক দেখেছে। এবার একটু বিশ্রামে যাও। এবার আমাদেরকে একটু সুযোগ দাও। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা বসন্তের কোকিল নয়, আমরা ইহজগতের বন্ধু, আর পরজগতে আল্লাহর কাছে বলি সেখানেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে রাখিও।”
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, “বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো সহ সকল শিল্পকলকারখানা চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ফিরিয়ে আনা হবে।”
এসময় আমিরে জামায়াত ১২ তারিখে প্রথম ভোটটি হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা যদি বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ৩৩ আসনে ১১ দলের আমাদের প্রার্থীদের উপহার দেন আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে, আল্লাহ সুস্থ রাখলে, আল্লাহ যদি আমাদের হাতে দেশ গড়ার সুযোগ দেন ইনশাআল্লাহ আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য আমরা লড়াই করে যাব। আপনাদের সাথে বেইমানি করব না। ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ হবে একটা নতুন সূর্য।
জনসভা স্থলে আমিরে জামায়াত আসার পূর্বেই জনসভাস্থলে তিস্তা অববাহিকার এলাকার নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৭টি সংসদীয় আসনের মানুষজন সকাল থেকে দলে দলে আসতে থাকেন। যা নিমিষেই জনসভাস্থল ছাড়িয়ে তিস্তা ব্যারাজের সড়ক পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তিস্তাপাড়ের জনসভা প্রস্তুতি কমিটির প্রধান লালমনিরহাট জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান, লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ্যাডঃ আব্দুল বাতেন, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৭টি আসনের প্রার্থী নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী ২ (সদর) আসনের প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী ৩ (জলঢাকা) আসনের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনের আব্দুল মুনতাকিম।

আপনার মতামত লিখুন