রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আসন্ন গণভোট বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
রাবি উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এম ছায়েদুর রহমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মাইনুল হক, আহত জুলাই যোদ্ধা হাফিজুল ইসলাম (চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ), সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সজীব (সমাজকর্ম বিভাগ), সালাহউদ্দিন আম্মার (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), শাহরিয়ার (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়), সাফিন (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মাহিন (এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), শোভা (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখ।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন। মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, প্রায় ৯ মাস ধরে ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে যে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো গেছে, তার ভিত্তিতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত চুয়ান্ন বছর বিশেষ করে গত ১৫ বছরের দুঃশাসন, অনিয়ম-দুর্নীতি, গুম-খুন, নির্যাতন ও নির্বাচনহীনতা যেন আর ফিরে না আসে, সে লক্ষ্যেই এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ। একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে গণভোট।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের আগে যে সময়টুকু আছে, সে সময়ের মধ্যে যুক্তিপূর্ণ ভাষায় জনগণকে বোঝাতে পারলে এখনো অনেক কিছু করা সম্ভব। উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের চালিকাশক্তি হিসেবে জুলাই সনদ একটি অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব জনগণের। বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করতে গণভোটে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, বিগত বছরের অপশাসন, গুম-খুন ও নির্যাতন যাতে আর ফিরে না আসে, সে জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভয়ভীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেনতেনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ আর থাকবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে উপাচার্য আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন নিয়ে তার আগ্রহ কম থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে তিনি অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এটি শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের একটি সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আসন্ন গণভোট বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
রাবি উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এম ছায়েদুর রহমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মাইনুল হক, আহত জুলাই যোদ্ধা হাফিজুল ইসলাম (চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ), সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সজীব (সমাজকর্ম বিভাগ), সালাহউদ্দিন আম্মার (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), শাহরিয়ার (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়), সাফিন (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মাহিন (এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), শোভা (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখ।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন। মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, প্রায় ৯ মাস ধরে ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে যে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো গেছে, তার ভিত্তিতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত চুয়ান্ন বছর বিশেষ করে গত ১৫ বছরের দুঃশাসন, অনিয়ম-দুর্নীতি, গুম-খুন, নির্যাতন ও নির্বাচনহীনতা যেন আর ফিরে না আসে, সে লক্ষ্যেই এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ। একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে গণভোট।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের আগে যে সময়টুকু আছে, সে সময়ের মধ্যে যুক্তিপূর্ণ ভাষায় জনগণকে বোঝাতে পারলে এখনো অনেক কিছু করা সম্ভব। উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের চালিকাশক্তি হিসেবে জুলাই সনদ একটি অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব জনগণের। বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করতে গণভোটে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, বিগত বছরের অপশাসন, গুম-খুন ও নির্যাতন যাতে আর ফিরে না আসে, সে জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভয়ভীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেনতেনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ আর থাকবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে উপাচার্য আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন নিয়ে তার আগ্রহ কম থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে তিনি অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এটি শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের একটি সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন