আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিভিন্ন নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাবনা সদর আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হুসাইন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে পাবনা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হুসাইন বলেন, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে নিজ উপজেলায় চাকরি করছেন এবং ইসলামী মানসিকতা সম্পন্ন ও নিরপেক্ষ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করছেন। অন্যদিকে একটি বিশেষ দলের অনুসারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে তাকে সদর উপজেলা থেকে বদলি করা না হলে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী রঙিন পোস্টারে প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ ধানের শীষের প্রার্থী প্রকাশ্যে রঙিন পোস্টারে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অসংখ্য পোস্টার টানিয়েছেন। এছাড়া গত ২৭ জানুয়ারি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুদেরহাট এলাকায় নারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেয় এবং নারীদের গায়ে হাত তোলে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইকবাল হুসাইন অভিযোগ করে বলেন, একই দিনে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের একটি নির্বাচনী সভায় ধানের শীষের প্রার্থী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সভায় প্রকাশ্যে তার সম্পর্কেও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি দাবি করেন, জনসমর্থন হারিয়ে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই প্রতিপক্ষ এসব অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, কিন্তু সেসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে এবং শিবির বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে। একইভাবে আসন্ন নির্বাচনেও তারা বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা পৌর জামায়াতের আমীর ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল লতিফ, সদর আমীর আব্দুর রব, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রেজাউল করিম, শিবিরের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু মুছা, পাবনা পৌর সাবেক আমীর আবিদ হাসান দুলাল, সাবেক শহর শিবির সভাপতি বদিউজ্জামালসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হচ্ছে এবং আপত্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আইনগত ব্যত্যয় দেখতে পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিভিন্ন নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাবনা সদর আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হুসাইন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে পাবনা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হুসাইন বলেন, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে নিজ উপজেলায় চাকরি করছেন এবং ইসলামী মানসিকতা সম্পন্ন ও নিরপেক্ষ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করছেন। অন্যদিকে একটি বিশেষ দলের অনুসারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে তাকে সদর উপজেলা থেকে বদলি করা না হলে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী রঙিন পোস্টারে প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ ধানের শীষের প্রার্থী প্রকাশ্যে রঙিন পোস্টারে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অসংখ্য পোস্টার টানিয়েছেন। এছাড়া গত ২৭ জানুয়ারি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুদেরহাট এলাকায় নারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেয় এবং নারীদের গায়ে হাত তোলে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইকবাল হুসাইন অভিযোগ করে বলেন, একই দিনে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের একটি নির্বাচনী সভায় ধানের শীষের প্রার্থী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সভায় প্রকাশ্যে তার সম্পর্কেও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি দাবি করেন, জনসমর্থন হারিয়ে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই প্রতিপক্ষ এসব অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, কিন্তু সেসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে এবং শিবির বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে। একইভাবে আসন্ন নির্বাচনেও তারা বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা পৌর জামায়াতের আমীর ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল লতিফ, সদর আমীর আব্দুর রব, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রেজাউল করিম, শিবিরের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু মুছা, পাবনা পৌর সাবেক আমীর আবিদ হাসান দুলাল, সাবেক শহর শিবির সভাপতি বদিউজ্জামালসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হচ্ছে এবং আপত্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আইনগত ব্যত্যয় দেখতে পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন