ইতিহাসের পাতায় ১৬৬৫ এবং ১৬৬৬ সাল দুটি ‘বিস্ময়কর বছর’ হিসেবে স্বীকৃত। এই সময়ে পৃথিবীর দুই প্রান্তে দুটি ভিন্নধর্মী ঘটনা ঘটেছিল—একদিকে ইংল্যান্ডে প্লেগ মহামারির অন্ধকার, অন্যদিকে বাংলাদেশে মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর বীরত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বিজয়। আজ থেকে ঠিক ৩৬০ বছর আগে ১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
শায়েস্তা খাঁর এই অভিযান কেবল একটি যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এক রণকৌশল। ১৬৬৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার লালবাগ দুর্গ থেকে তাঁর পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। মোগল বাহিনী স্থল ও নৌ—উভয় পথে অগ্রসর হয়। প্রথম ধাপে সন্দ্বীপ জয় করার পর ১৬৬৬ সালের ১৪ জানুয়ারি যৌথবাহিনী ফেনী নদী অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। মিরেরসরাই ও সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল পাড়ি দিয়ে ২৪ জানুয়ারি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানি বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। চার দিনের টানা যুদ্ধের পর ২৭ জানুয়ারি মোগলরা বিজয় লাভ করে। আরাকানিদের বাঁশের কেল্লায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পরাধীনতার অবসান ঘটানো হয়।
এই বিজয়ের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। প্রায় ১৩০ বছর ধরে চট্টগ্রাম ছিল পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের কেন্দ্রবিন্দু, যা বাংলার জানমালের জন্য বড় হুমকি ছিল। শায়েস্তা খাঁর বিজয়ের ফলে উত্তর চট্টগ্রাম থেকে রামু পর্যন্ত এলাকা মোগল শাসনে আসে এবং দীর্ঘদিনের অরাজকতা দূর হয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিজয়ের স্মারক হিসেবে চট্টগ্রামের নাম রাখা হয়েছিল ‘ইসলামাবাদ’।
একই সময়ে ইংল্যান্ডে চলছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম প্লেগ মহামারি। লন্ডনের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এ প্রাণ হারায়। মজার ব্যাপার হলো, এই প্লেগ ও যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন থাকাকালীন মাধ্যাকর্ষণ এবং আলোর সূত্রের মতো যুগান্তকারী সব ধারণা লাভ করেন। মহাকাশের এক বিরল মুহূর্তে পরপর দুটি চন্দ্রগ্রহণের মাঝে যখন নিউটন মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজছিলেন, ঠিক সেই সময়েই বাংলার জলসীমায় শায়েস্তা খাঁর নৌবাহিনী এক নতুন ইতিহাস রচনা করছিল।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ইতিহাসের পাতায় ১৬৬৫ এবং ১৬৬৬ সাল দুটি ‘বিস্ময়কর বছর’ হিসেবে স্বীকৃত। এই সময়ে পৃথিবীর দুই প্রান্তে দুটি ভিন্নধর্মী ঘটনা ঘটেছিল—একদিকে ইংল্যান্ডে প্লেগ মহামারির অন্ধকার, অন্যদিকে বাংলাদেশে মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর বীরত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বিজয়। আজ থেকে ঠিক ৩৬০ বছর আগে ১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
শায়েস্তা খাঁর এই অভিযান কেবল একটি যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এক রণকৌশল। ১৬৬৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার লালবাগ দুর্গ থেকে তাঁর পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। মোগল বাহিনী স্থল ও নৌ—উভয় পথে অগ্রসর হয়। প্রথম ধাপে সন্দ্বীপ জয় করার পর ১৬৬৬ সালের ১৪ জানুয়ারি যৌথবাহিনী ফেনী নদী অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। মিরেরসরাই ও সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল পাড়ি দিয়ে ২৪ জানুয়ারি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানি বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। চার দিনের টানা যুদ্ধের পর ২৭ জানুয়ারি মোগলরা বিজয় লাভ করে। আরাকানিদের বাঁশের কেল্লায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পরাধীনতার অবসান ঘটানো হয়।
এই বিজয়ের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। প্রায় ১৩০ বছর ধরে চট্টগ্রাম ছিল পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের কেন্দ্রবিন্দু, যা বাংলার জানমালের জন্য বড় হুমকি ছিল। শায়েস্তা খাঁর বিজয়ের ফলে উত্তর চট্টগ্রাম থেকে রামু পর্যন্ত এলাকা মোগল শাসনে আসে এবং দীর্ঘদিনের অরাজকতা দূর হয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিজয়ের স্মারক হিসেবে চট্টগ্রামের নাম রাখা হয়েছিল ‘ইসলামাবাদ’।
একই সময়ে ইংল্যান্ডে চলছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম প্লেগ মহামারি। লন্ডনের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এ প্রাণ হারায়। মজার ব্যাপার হলো, এই প্লেগ ও যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন থাকাকালীন মাধ্যাকর্ষণ এবং আলোর সূত্রের মতো যুগান্তকারী সব ধারণা লাভ করেন। মহাকাশের এক বিরল মুহূর্তে পরপর দুটি চন্দ্রগ্রহণের মাঝে যখন নিউটন মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজছিলেন, ঠিক সেই সময়েই বাংলার জলসীমায় শায়েস্তা খাঁর নৌবাহিনী এক নতুন ইতিহাস রচনা করছিল।

আপনার মতামত লিখুন