নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন একাধিক প্রার্থী। বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষিদ্ধ প্রচারণার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক-মোড়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফুটপাতজুড়ে ঝুলছে বড় আকারের পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন। এতে একদিকে যেমন নগর শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের নির্বাচনি প্রচারণায় নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রচারেও রাজধানীর সড়কজুড়ে পিভিসি ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রার্থীদের ছবি, প্রতীক ও স্লোগানসংবলিত এসব ব্যানার প্রকাশ্যেই টাঙানো রয়েছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্লাস্টিকজাত পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও পোস্টার বা ব্যানার লাগানোর ওপরও রয়েছে কড়াকড়ি। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যানার সড়কের ওপর ঝুলে থাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালে ব্যানার ও পোস্টারে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি স্টাডি করেছি। এবারে পোস্টার ব্যবহার কিছুটা কমলেও পিভিসি ব্যানারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এই প্লাস্টিক কোনোভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে না, ড্রেন ও নালায় জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। আবার এগুলো পোড়ালে মারাত্মক বায়ুদূষণ হয়। পরিবেশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানলে এ ধরনের কাজের কোনো সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তাদের অতিউৎসাহী কর্মীরা এসব করছেন, যা আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতিরও প্রমাণ।
পরিবেশবিদদের মতে, পিভিসি ব্যানার দীর্ঘদিন নষ্ট না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ায় এবং নগরজীবনে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি করে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির অভাবে এই অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দল-মত নির্বিশেষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতেও একই চিত্র দেখা যাবে।
গ্রীন ভয়েসের এক পরিবেশকর্মী বলেন, ‘পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ ও নগরজীবন রক্ষা করা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া শুধু নির্দেশনা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। কঠোর শাস্তি না হলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না।’
রাজধানীর বাসিন্দা সাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় পুরো শহর পোস্টার আর ব্যানারে ভরে যায়। ভোট শেষ হলে এগুলো পরিষ্কার করা হয় না। শেষ পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।’
ঢাকা-৮ আসনের বাসিন্দা ও শিক্ষক রকিকুল আলম বলেন, ‘আচরণবিধি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিপক্বতারও পরীক্ষা। যারা শুরুতেই নিয়ম ভাঙছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আইন মানবেন—এমন আস্থা তৈরি হচ্ছে না।’

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন একাধিক প্রার্থী। বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষিদ্ধ প্রচারণার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক-মোড়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফুটপাতজুড়ে ঝুলছে বড় আকারের পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন। এতে একদিকে যেমন নগর শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের নির্বাচনি প্রচারণায় নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রচারেও রাজধানীর সড়কজুড়ে পিভিসি ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রার্থীদের ছবি, প্রতীক ও স্লোগানসংবলিত এসব ব্যানার প্রকাশ্যেই টাঙানো রয়েছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্লাস্টিকজাত পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও পোস্টার বা ব্যানার লাগানোর ওপরও রয়েছে কড়াকড়ি। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যানার সড়কের ওপর ঝুলে থাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালে ব্যানার ও পোস্টারে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি স্টাডি করেছি। এবারে পোস্টার ব্যবহার কিছুটা কমলেও পিভিসি ব্যানারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এই প্লাস্টিক কোনোভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে না, ড্রেন ও নালায় জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। আবার এগুলো পোড়ালে মারাত্মক বায়ুদূষণ হয়। পরিবেশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানলে এ ধরনের কাজের কোনো সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তাদের অতিউৎসাহী কর্মীরা এসব করছেন, যা আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতিরও প্রমাণ।
পরিবেশবিদদের মতে, পিভিসি ব্যানার দীর্ঘদিন নষ্ট না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ায় এবং নগরজীবনে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি করে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির অভাবে এই অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দল-মত নির্বিশেষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতেও একই চিত্র দেখা যাবে।
গ্রীন ভয়েসের এক পরিবেশকর্মী বলেন, ‘পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ ও নগরজীবন রক্ষা করা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া শুধু নির্দেশনা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। কঠোর শাস্তি না হলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না।’
রাজধানীর বাসিন্দা সাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় পুরো শহর পোস্টার আর ব্যানারে ভরে যায়। ভোট শেষ হলে এগুলো পরিষ্কার করা হয় না। শেষ পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।’
ঢাকা-৮ আসনের বাসিন্দা ও শিক্ষক রকিকুল আলম বলেন, ‘আচরণবিধি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিপক্বতারও পরীক্ষা। যারা শুরুতেই নিয়ম ভাঙছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আইন মানবেন—এমন আস্থা তৈরি হচ্ছে না।’

আপনার মতামত লিখুন