উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে নিয়ে বেকারত্বের অভিশাপ সইতে না চেয়ে কৃষিতেই নিজের ভাগ্য গড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তরুণ জজম আলী। মাস্টার্স পাস করার পর ঘুষ বা সুপারিশের পেছনে না ঘুরে নিজ এলাকায় ৪২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। মৌসুম শেষে সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁর নিট মুনাফা ৪০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জজম আলীর এই সফলতার পথ সহজ ছিল না। তিনি জানান, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে গিয়ে দেখেন মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে লবিং আর মোটা অঙ্কের টাকার প্রাধান্য বেশি। তখনই সিদ্ধান্ত নেন অন্যের অধীনে কাজ না করে নিজে কিছু করবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আরও চারজন সহযোগী নিয়ে বার্ষিক বিঘা প্রতি ১৯ হাজার টাকা দরে ৪২ বিঘা জমি লিজ নেন তিনি। জমি চাষ, চারা রোপণ ও মাচা তৈরিসহ এ পর্যন্ত তাঁর মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
গত অক্টোবর মাসে চারা রোপণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করে। ডিসেম্বর থেকে বাজারে টমেটো বিক্রি শুরু করেছেন জজম আলী। তিনি বলেন, “গত দেড় মাসেই আমি প্রায় ৪৬ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। বিনিয়োগের বড় অংশই উঠে এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আরও দুই মাস ফলন পাওয়া যাবে। আমার বিশ্বাস, সব খরচ বাদে এবার ৪০ লাখ টাকা লাভ করতে পারব।”
জজম আলীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল তাঁর নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরায়নি, সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রতিদিন ৪০-৪৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁদের প্রত্যেকের দৈনিক আয় ৫০০ টাকা। চাকরির আশায় হতাশ হয়ে বেকার যুবকরা যখন বিপথে যাচ্ছে, তখন জজম আলীর এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, “সৎ জীবনযাপন ও আনন্দের জন্য কৃষিকাজ এক অনন্য পেশা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুবিশাল এলাকাজুড়ে টমেটোর ক্ষেত এখন লাল-সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে। থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা টমেটো, যা এলাকার সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া জজম আলীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জে প্রায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। জজম আলীর মতো শিক্ষিত তরুণরা কৃষিতে আসায় আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা তাঁকে প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার আরও অনেক শিক্ষিত যুবক এখন টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
উচ্চশিক্ষা নিয়ে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে না ঘুরে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করলে যে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব—শিবগঞ্জের জজম আলী আজ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে নিয়ে বেকারত্বের অভিশাপ সইতে না চেয়ে কৃষিতেই নিজের ভাগ্য গড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তরুণ জজম আলী। মাস্টার্স পাস করার পর ঘুষ বা সুপারিশের পেছনে না ঘুরে নিজ এলাকায় ৪২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। মৌসুম শেষে সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁর নিট মুনাফা ৪০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জজম আলীর এই সফলতার পথ সহজ ছিল না। তিনি জানান, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে গিয়ে দেখেন মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে লবিং আর মোটা অঙ্কের টাকার প্রাধান্য বেশি। তখনই সিদ্ধান্ত নেন অন্যের অধীনে কাজ না করে নিজে কিছু করবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আরও চারজন সহযোগী নিয়ে বার্ষিক বিঘা প্রতি ১৯ হাজার টাকা দরে ৪২ বিঘা জমি লিজ নেন তিনি। জমি চাষ, চারা রোপণ ও মাচা তৈরিসহ এ পর্যন্ত তাঁর মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।
গত অক্টোবর মাসে চারা রোপণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করে। ডিসেম্বর থেকে বাজারে টমেটো বিক্রি শুরু করেছেন জজম আলী। তিনি বলেন, “গত দেড় মাসেই আমি প্রায় ৪৬ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। বিনিয়োগের বড় অংশই উঠে এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আরও দুই মাস ফলন পাওয়া যাবে। আমার বিশ্বাস, সব খরচ বাদে এবার ৪০ লাখ টাকা লাভ করতে পারব।”
জজম আলীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল তাঁর নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরায়নি, সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রতিদিন ৪০-৪৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁদের প্রত্যেকের দৈনিক আয় ৫০০ টাকা। চাকরির আশায় হতাশ হয়ে বেকার যুবকরা যখন বিপথে যাচ্ছে, তখন জজম আলীর এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, “সৎ জীবনযাপন ও আনন্দের জন্য কৃষিকাজ এক অনন্য পেশা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুবিশাল এলাকাজুড়ে টমেটোর ক্ষেত এখন লাল-সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে। থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা টমেটো, যা এলাকার সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া জজম আলীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জে প্রায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। জজম আলীর মতো শিক্ষিত তরুণরা কৃষিতে আসায় আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা তাঁকে প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার আরও অনেক শিক্ষিত যুবক এখন টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
উচ্চশিক্ষা নিয়ে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে না ঘুরে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করলে যে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব—শিবগঞ্জের জজম আলী আজ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপনার মতামত লিখুন