ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চাঁদা না পেয়ে কলেজ শিক্ষককে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতা কারাগারে


রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে কলেজ শিক্ষককে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতা কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত | গ্রাফিক্স: নববাণী

রাজশাহীতে এক কলেজ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি এবং তাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েলের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা প্রশাসন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন শাহ মখদুম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন। মামলার এজাহার অনুযায়ী শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান জুয়েলের কাছে গত তিন মাস ধরে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন তারা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ৪ মার্চ বুধবার রাতে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় শিক্ষকের বাসার নিচে তাকে একা পেয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাগারে পাঠানোর আগে শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী আসাদুজ্জামান জুয়েল আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ধ্বংস হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানোর ঘটনার সাথেও ওই শিক্ষকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। মূলত এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শিহাব ও চন্দন।

অন্যদিকে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল তার বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে তার কাছে অভিযুক্তদের চাঁদাবাজির অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে নিয়মিত কলেজে ক্লাস নেওয়া সত্ত্বেও নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ছাত্রদল নেতারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। বর্তমানে মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


চাঁদা না পেয়ে কলেজ শিক্ষককে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতা কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজশাহীতে এক কলেজ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি এবং তাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েলের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা প্রশাসন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন শাহ মখদুম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন। মামলার এজাহার অনুযায়ী শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান জুয়েলের কাছে গত তিন মাস ধরে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন তারা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ৪ মার্চ বুধবার রাতে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় শিক্ষকের বাসার নিচে তাকে একা পেয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাগারে পাঠানোর আগে শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী আসাদুজ্জামান জুয়েল আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ধ্বংস হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানোর ঘটনার সাথেও ওই শিক্ষকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। মূলত এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শিহাব ও চন্দন।

অন্যদিকে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল তার বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে তার কাছে অভিযুক্তদের চাঁদাবাজির অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে নিয়মিত কলেজে ক্লাস নেওয়া সত্ত্বেও নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ছাত্রদল নেতারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। বর্তমানে মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ