জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাসনক্ষমতার রদবদল হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে শোষিত ও নিপীড়িত জনগণের হাতে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এই দাবি জানান। ‘সংস্কার বা জোড়াতালি নয়, শ্রমিক-কৃষক জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই, জনগণের সরকার সংবিধান রাষ্ট্র চাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত বদরুদ্দীন উমর এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল হাকিম বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা গেলে বড় পরিবর্তন সম্ভব। তবে এই অভ্যুত্থানে কৃষক-শ্রমিকের অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের মুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না।
তিনি বর্তমান শাসক শ্রেণির সংকট ও বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে একটি রাজনৈতিক গণ-অভ্যুত্থান সংগঠনের আহ্বান জানান। বদরুদ্দীন উমর প্রণীত ১৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব অন্তর্বর্তী সরকার ও নতুন সংবিধান সভার নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য আমীর আব্বাসের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বিদ্যমান ব্যবস্থায় কৃষক ও মজুর শ্রেণি এখনো শোষণের শিকার। আগামী নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো বজায় থাকলে জনগণের মৌলিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না। মব জাস্টিস বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধে সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার ওপর জোর দেন তারা। গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করতে না পারলে প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।
জাতীয় পরিষদের সদস্য ভুলন ভৌমিক তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ হলো আরেকটি সফল গণ-অভ্যুত্থান, যেখানে তাদের অধিকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি কাজী ইকবাল বামপন্থী রাজনীতিতে অতীতের ভুল সংশোধন করে জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দাবি করেন, বদরুদ্দীন উমরের ১৮ দফার মধ্যেই সমাজতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের মুক্তির প্রকৃত পথ নিহিত রয়েছে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় কমিটির সভাপতি আকমল হোসেন এবং সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একযোগে ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত একটি সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাসনক্ষমতার রদবদল হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে শোষিত ও নিপীড়িত জনগণের হাতে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এই দাবি জানান। ‘সংস্কার বা জোড়াতালি নয়, শ্রমিক-কৃষক জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই, জনগণের সরকার সংবিধান রাষ্ট্র চাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত বদরুদ্দীন উমর এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল হাকিম বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা গেলে বড় পরিবর্তন সম্ভব। তবে এই অভ্যুত্থানে কৃষক-শ্রমিকের অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের মুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না।
তিনি বর্তমান শাসক শ্রেণির সংকট ও বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে একটি রাজনৈতিক গণ-অভ্যুত্থান সংগঠনের আহ্বান জানান। বদরুদ্দীন উমর প্রণীত ১৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব অন্তর্বর্তী সরকার ও নতুন সংবিধান সভার নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য আমীর আব্বাসের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বিদ্যমান ব্যবস্থায় কৃষক ও মজুর শ্রেণি এখনো শোষণের শিকার। আগামী নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো বজায় থাকলে জনগণের মৌলিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না। মব জাস্টিস বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধে সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার ওপর জোর দেন তারা। গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করতে না পারলে প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।
জাতীয় পরিষদের সদস্য ভুলন ভৌমিক তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ হলো আরেকটি সফল গণ-অভ্যুত্থান, যেখানে তাদের অধিকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি কাজী ইকবাল বামপন্থী রাজনীতিতে অতীতের ভুল সংশোধন করে জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দাবি করেন, বদরুদ্দীন উমরের ১৮ দফার মধ্যেই সমাজতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের মুক্তির প্রকৃত পথ নিহিত রয়েছে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় কমিটির সভাপতি আকমল হোসেন এবং সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একযোগে ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত একটি সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন