ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া কঠোর নির্দেশনা মানছেন না প্রার্থীরা। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার এক মাস পরও রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। আচরণবিধির এমন সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গত ১১ ডিসেম্বর ইসি তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেয়। নির্দেশনার পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রধান সড়কগুলোতে অভিযান চালালেও নগরের অভ্যন্তরীণ অলিগলিতে তার তেমন প্রভাব পড়েনি। সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুতের খুঁটি এবং মেট্রোরেলের পিলারেও রাজনৈতিক প্রচারণার চিহ্ন রয়ে গেছে।
এলাকাভিত্তিক বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট। ডেমরা-মাতুয়াইলে স্টাফ কোয়ার্টার, হাজিনগর, কোনাপাড়া ও সারুলিয়াসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে এখনো পোস্টার ঝুলছে। পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, বংশাল ও ওয়ারীর প্রধান সড়কগুলো তুলনামূলক পরিষ্কার থাকলেও অলিগলিতে ছোট-বড় অসংখ্য ফেস্টুন ও ব্যানার চোখে পড়ছে। একই চিত্র দেখা গেছে বাসাবো, খিলগাঁও, মানিকনগর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং মিরপুরের ভেতরের গলিগুলোতেও।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইসির নির্দেশনার পরও প্রচার সামগ্রী অপসারণ না করা প্রার্থীদের দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি দল ও প্রার্থীর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, কোথাও প্রচার সামগ্রী থেকে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেটরা তা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে প্রার্থীরা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, কর্মীদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ পোস্টার সরানো হয়েছে। অবশিষ্ট যা আছে, তা দ্রুত অপসারণ করা হবে। ইসির নির্দেশনার পর নতুন করে কোনো ব্যানার লাগানো হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণে স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে চরম অবহেলা করা হয়েছে। এতে একদিকে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনের শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া কঠোর নির্দেশনা মানছেন না প্রার্থীরা। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার এক মাস পরও রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। আচরণবিধির এমন সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গত ১১ ডিসেম্বর ইসি তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেয়। নির্দেশনার পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রধান সড়কগুলোতে অভিযান চালালেও নগরের অভ্যন্তরীণ অলিগলিতে তার তেমন প্রভাব পড়েনি। সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুতের খুঁটি এবং মেট্রোরেলের পিলারেও রাজনৈতিক প্রচারণার চিহ্ন রয়ে গেছে।
এলাকাভিত্তিক বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট। ডেমরা-মাতুয়াইলে স্টাফ কোয়ার্টার, হাজিনগর, কোনাপাড়া ও সারুলিয়াসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে এখনো পোস্টার ঝুলছে। পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, বংশাল ও ওয়ারীর প্রধান সড়কগুলো তুলনামূলক পরিষ্কার থাকলেও অলিগলিতে ছোট-বড় অসংখ্য ফেস্টুন ও ব্যানার চোখে পড়ছে। একই চিত্র দেখা গেছে বাসাবো, খিলগাঁও, মানিকনগর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং মিরপুরের ভেতরের গলিগুলোতেও।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইসির নির্দেশনার পরও প্রচার সামগ্রী অপসারণ না করা প্রার্থীদের দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি দল ও প্রার্থীর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, কোথাও প্রচার সামগ্রী থেকে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেটরা তা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে প্রার্থীরা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, কর্মীদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ পোস্টার সরানো হয়েছে। অবশিষ্ট যা আছে, তা দ্রুত অপসারণ করা হবে। ইসির নির্দেশনার পর নতুন করে কোনো ব্যানার লাগানো হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণে স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে চরম অবহেলা করা হয়েছে। এতে একদিকে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনের শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন