বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বাপি) সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ ওষুধ কোম্পানি আর্থিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ কোম্পানি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে ওষুধ শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ থমকে গেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি দেশের রোগীদের ওষুধপ্রাপ্যতা এবং বৈশ্বিক বাজারে ওষুধ রফতানির সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ নয়, সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, যদি দেশের একশ’ ওষুধ কোম্পানির সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে মাত্র ১০ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠান ভালো অবস্থানে আছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি অবনতিশীল প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে এবং এর মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ কোম্পানি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা খুব শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে।
বাপি সভাপতি বলেন, অধিকাংশ মাঝারি ও ছোট কোম্পানি ১০০ থেকে ২০০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করে, কিন্তু এসব ওষুধের বড় অংশের দাম দীর্ঘদিন ধরে বাড়ানো হয়নি। ১৯৯০ সালে যে ওষুধের দাম ছিল দুই টাকা, ২০২৬ সালেও অনেক ক্ষেত্রে সেই দামই বহাল রয়েছে। সরকার মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ না দেওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করায় কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বন্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর নতুন নতুন নিয়ম আরোপ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিল্পের স্বাভাবিক গতিধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে শিল্পের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে, মান উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওষুধের দামও সহনীয় রাখা যাবে। কিন্তু স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হলে শিল্প উৎপাদন হারাবে এবং এক পর্যায়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কীভাবে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে, ভেনেজুয়েলার অবস্থা তার বড় প্রমাণ। একই পথে এগোলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পও মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে, যা ২০১৬ সালের পর থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত এক দশকে উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর কাছে তিনি আহ্বান জানান, ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতির মূল চেতনা বহাল রেখে অন্তত ৬০ শতাংশ পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বাপির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ হালিমুজ্জামান, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বাপি) সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ ওষুধ কোম্পানি আর্থিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ কোম্পানি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে ওষুধ শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ থমকে গেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি দেশের রোগীদের ওষুধপ্রাপ্যতা এবং বৈশ্বিক বাজারে ওষুধ রফতানির সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ নয়, সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, যদি দেশের একশ’ ওষুধ কোম্পানির সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে মাত্র ১০ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠান ভালো অবস্থানে আছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি অবনতিশীল প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে এবং এর মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ কোম্পানি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা খুব শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে।
বাপি সভাপতি বলেন, অধিকাংশ মাঝারি ও ছোট কোম্পানি ১০০ থেকে ২০০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করে, কিন্তু এসব ওষুধের বড় অংশের দাম দীর্ঘদিন ধরে বাড়ানো হয়নি। ১৯৯০ সালে যে ওষুধের দাম ছিল দুই টাকা, ২০২৬ সালেও অনেক ক্ষেত্রে সেই দামই বহাল রয়েছে। সরকার মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ না দেওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করায় কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বন্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর নতুন নতুন নিয়ম আরোপ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিল্পের স্বাভাবিক গতিধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে শিল্পের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে, মান উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওষুধের দামও সহনীয় রাখা যাবে। কিন্তু স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হলে শিল্প উৎপাদন হারাবে এবং এক পর্যায়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কীভাবে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে, ভেনেজুয়েলার অবস্থা তার বড় প্রমাণ। একই পথে এগোলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পও মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে, যা ২০১৬ সালের পর থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত এক দশকে উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর কাছে তিনি আহ্বান জানান, ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতির মূল চেতনা বহাল রেখে অন্তত ৬০ শতাংশ পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বাপির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ হালিমুজ্জামান, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।

আপনার মতামত লিখুন