ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একদল সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক, কিউবা ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দেন। এসব ঘটনার পর আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপিরা।
এ প্রেক্ষিতে ফিফার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে একটি ক্রস-পার্টি গ্রুপ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর মোট ২৩ জন এমপি সংসদে একটি প্রস্তাবে সই করেছেন। প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ‘অপহরণ’ এবং ডেনমার্ক, কলম্বিয়া ও কিউবাসহ অন্যান্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেবার পার্টির এমপি ব্রায়ান লেইশম্যান, যিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, দ্য মিররকে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে এক ধরনের ভণ্ডামি রয়েছে। তার ভাষায়, ফিফা দাবি করে তারা রাজনৈতিক নয়, অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরস্কৃত করে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার সভাপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন। এ বিষয়ে লেইশম্যান বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে হামলা চালানো এবং একজন প্রেসিডেন্টকে অপহরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাদুরোর কড়া সমালোচক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনবিষয়ক বিশ্লেষক জন জেরাফা মনে করছেন, সামনে ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, এসব সংস্থার সনদেই শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোভুক্ত ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ডে বলপ্রয়োগ করে, সে ক্ষেত্রে একই নীতি কার্যকর হবে কি না—এ প্রশ্নও উঠছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একদল সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক, কিউবা ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দেন। এসব ঘটনার পর আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপিরা।
এ প্রেক্ষিতে ফিফার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে একটি ক্রস-পার্টি গ্রুপ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর মোট ২৩ জন এমপি সংসদে একটি প্রস্তাবে সই করেছেন। প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ‘অপহরণ’ এবং ডেনমার্ক, কলম্বিয়া ও কিউবাসহ অন্যান্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেবার পার্টির এমপি ব্রায়ান লেইশম্যান, যিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, দ্য মিররকে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে এক ধরনের ভণ্ডামি রয়েছে। তার ভাষায়, ফিফা দাবি করে তারা রাজনৈতিক নয়, অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরস্কৃত করে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার সভাপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন। এ বিষয়ে লেইশম্যান বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে হামলা চালানো এবং একজন প্রেসিডেন্টকে অপহরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাদুরোর কড়া সমালোচক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনবিষয়ক বিশ্লেষক জন জেরাফা মনে করছেন, সামনে ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, এসব সংস্থার সনদেই শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোভুক্ত ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ডে বলপ্রয়োগ করে, সে ক্ষেত্রে একই নীতি কার্যকর হবে কি না—এ প্রশ্নও উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন