বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা মিশা সওদাগর আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন। বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই অভিনেতা অভিনয়জীবনে কাছ থেকে পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর সান্নিধ্য ও স্নেহ।
সম্প্রতি রাহাত সাইফুল সঞ্চালিত ‘রাইজিংবিডি স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হুমায়ুন ফরিদীকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, হুমায়ুন ফরিদীকে কোনো নির্দিষ্ট ‘খল’ বা একধরনের চরিত্রে বেঁধে রাখা যায় না। তিনি ছিলেন একজন বিশ্বমানের অভিনেতা। ভারতের সিনেমায় কাজ না করলেও আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী হিসেবে তার অভিনয় ছিল অনন্য।
নিজের অভিনয়জীবনে হুমায়ুন ফরিদীর প্রভাবের কথা তুলে ধরে মিশা সওদাগর জানান, ফরিদীর কথায় ও তাকে ভালোবেসেই তিনি ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তখন তিনি নায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও যেসব প্রস্তাব আসত, সেখানে প্রেমিক চরিত্রে জোর করে প্রেম আদায়ের দৃশ্য থাকত। এসব চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে রাজি হননি বলেও জানান মিশা।
হুমায়ুন ফরিদীর সঙ্গে কাজের শুরুর দিকের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে মিশা বলেন, ‘সন্ত্রাস’ সিনেমায় শহীদুল ইসলাম খোকন যেভাবে ফরিদীকে পরিচয় করিয়ে দেন, তা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। ফিল্মের বাইরে ফরিদীকে দেখেই তিনি বুঝেছিলেন, আসল অভিনেতা কাকে বলে। স্টেজ নাটক বা টিভি নাটকের অভিনয়ের ধরন থেকে চলচ্চিত্র অভিনয় যে কতটা আলাদা, ফরিদী সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে মিশা সওদাগর জানান, ব্যক্তিজীবনেও হুমায়ুন ফরিদীর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। একবার ফরিদী তার বাসায় ৩০ বক্স মিষ্টি নিয়ে হাজির হন, যা আজও তার কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে আছে। আবেগাপ্লুত হয়ে মিশা বলেন, তিনি একবার স্ত্রীকে বলেছিলেন—স্ত্রী ছাড়া আর যদি কারও সঙ্গে জীবন কাটাতে হয়, তবে তিনি হবেন হুমায়ুন ফরিদী; তাকে সেবা করে, দেখে ও তার কাছ থেকে শিখে জীবন কাটানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন মিশা সওদাগর। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা মিশা সওদাগর আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন। বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই অভিনেতা অভিনয়জীবনে কাছ থেকে পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর সান্নিধ্য ও স্নেহ।
সম্প্রতি রাহাত সাইফুল সঞ্চালিত ‘রাইজিংবিডি স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হুমায়ুন ফরিদীকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, হুমায়ুন ফরিদীকে কোনো নির্দিষ্ট ‘খল’ বা একধরনের চরিত্রে বেঁধে রাখা যায় না। তিনি ছিলেন একজন বিশ্বমানের অভিনেতা। ভারতের সিনেমায় কাজ না করলেও আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী হিসেবে তার অভিনয় ছিল অনন্য।
নিজের অভিনয়জীবনে হুমায়ুন ফরিদীর প্রভাবের কথা তুলে ধরে মিশা সওদাগর জানান, ফরিদীর কথায় ও তাকে ভালোবেসেই তিনি ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তখন তিনি নায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও যেসব প্রস্তাব আসত, সেখানে প্রেমিক চরিত্রে জোর করে প্রেম আদায়ের দৃশ্য থাকত। এসব চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে রাজি হননি বলেও জানান মিশা।
হুমায়ুন ফরিদীর সঙ্গে কাজের শুরুর দিকের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে মিশা বলেন, ‘সন্ত্রাস’ সিনেমায় শহীদুল ইসলাম খোকন যেভাবে ফরিদীকে পরিচয় করিয়ে দেন, তা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। ফিল্মের বাইরে ফরিদীকে দেখেই তিনি বুঝেছিলেন, আসল অভিনেতা কাকে বলে। স্টেজ নাটক বা টিভি নাটকের অভিনয়ের ধরন থেকে চলচ্চিত্র অভিনয় যে কতটা আলাদা, ফরিদী সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে মিশা সওদাগর জানান, ব্যক্তিজীবনেও হুমায়ুন ফরিদীর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। একবার ফরিদী তার বাসায় ৩০ বক্স মিষ্টি নিয়ে হাজির হন, যা আজও তার কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে আছে। আবেগাপ্লুত হয়ে মিশা বলেন, তিনি একবার স্ত্রীকে বলেছিলেন—স্ত্রী ছাড়া আর যদি কারও সঙ্গে জীবন কাটাতে হয়, তবে তিনি হবেন হুমায়ুন ফরিদী; তাকে সেবা করে, দেখে ও তার কাছ থেকে শিখে জীবন কাটানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন মিশা সওদাগর। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।

আপনার মতামত লিখুন