ময়মনসিংহ মহানগরীর গোলকীবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত জানাজার নামাজের স্থানটি সংরক্ষিত রাখার দাবিতে আবারো আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী; নির্ধারিত স্থানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় নির্মাণের জন্য ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয়দের প্রবল বাধার মুখে সেখানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নগরীর গোলকীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ফাঁকা জায়গাটি কয়েক দশক ধরে গোলকীবাড়ি, কলেজ রোড এবং মোহাম্মদ আলী রোডসহ পার্শ্ববর্তী জনবহুল এলাকার মৃত ব্যক্তিদের জানাজার নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এই নির্দিষ্ট স্থানটি ব্যতীত জানাজা সম্পন্ন করার মতো বিকল্প কোনো খোলা মাঠ আশেপাশে নেই। ফলে স্থানটি দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় মসজিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
বিবাদমান এই স্থানে সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর প্রতিবাদে এর আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৮২০ জনের স্বাক্ষর সংবলিত ৩৩ ফর্মার একটি স্মারকলিপি সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের নিকট পেশ করা হয়েছিল। তবে এলাকাবাসীর দাবি উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করে। মঙ্গলবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজপথে নেমে আসে এবং নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে।
আন্দোলনকারীদের সমর্থনে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আনোয়ারুল আজিজ টুটুল বলেন, "এই স্থানটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগের সাথে মিশে আছে। আমি নিজেও এখানে বহু মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছি। কাউন্সিলর কার্যালয়টি এই স্থানে না করে পার্শ্ববর্তী নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝখানের জায়গায় স্থানান্তর করলে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।"
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সম্প্রতি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকাবাসীর দাবির যৌক্তিকতার সাথে সংহতি প্রকাশ করে জানান, তার আত্মীয়ের জানাজাও এই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোলকীবাড়ি মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী রুহুল আমিন, মোকাম্মেল হক শাকিল, সৈয়দ সাদউদ্দিন প্রিন্স এবং সাংবাদিক আদিলুজ্জামান আদিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান না হলে জানাজার মাঠ রক্ষার এই আন্দোলন ভবিষ্যতে বৃহত্তর বিশৃঙ্খলার রূপ নিতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহ মহানগরীর গোলকীবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত জানাজার নামাজের স্থানটি সংরক্ষিত রাখার দাবিতে আবারো আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী; নির্ধারিত স্থানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় নির্মাণের জন্য ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয়দের প্রবল বাধার মুখে সেখানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নগরীর গোলকীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ফাঁকা জায়গাটি কয়েক দশক ধরে গোলকীবাড়ি, কলেজ রোড এবং মোহাম্মদ আলী রোডসহ পার্শ্ববর্তী জনবহুল এলাকার মৃত ব্যক্তিদের জানাজার নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এই নির্দিষ্ট স্থানটি ব্যতীত জানাজা সম্পন্ন করার মতো বিকল্প কোনো খোলা মাঠ আশেপাশে নেই। ফলে স্থানটি দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় মসজিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
বিবাদমান এই স্থানে সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর প্রতিবাদে এর আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৮২০ জনের স্বাক্ষর সংবলিত ৩৩ ফর্মার একটি স্মারকলিপি সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের নিকট পেশ করা হয়েছিল। তবে এলাকাবাসীর দাবি উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করে। মঙ্গলবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজপথে নেমে আসে এবং নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে।
আন্দোলনকারীদের সমর্থনে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আনোয়ারুল আজিজ টুটুল বলেন, "এই স্থানটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগের সাথে মিশে আছে। আমি নিজেও এখানে বহু মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছি। কাউন্সিলর কার্যালয়টি এই স্থানে না করে পার্শ্ববর্তী নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝখানের জায়গায় স্থানান্তর করলে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।"
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সম্প্রতি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকাবাসীর দাবির যৌক্তিকতার সাথে সংহতি প্রকাশ করে জানান, তার আত্মীয়ের জানাজাও এই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোলকীবাড়ি মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী রুহুল আমিন, মোকাম্মেল হক শাকিল, সৈয়দ সাদউদ্দিন প্রিন্স এবং সাংবাদিক আদিলুজ্জামান আদিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান না হলে জানাজার মাঠ রক্ষার এই আন্দোলন ভবিষ্যতে বৃহত্তর বিশৃঙ্খলার রূপ নিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন