ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নীলফামারীতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ


মো:সেলিম হোসেন
মো:সেলিম হোসেন Staff Reporter
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নীলফামারীতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী জেলায় দিন দিন বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। মনোনয়ন দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ায় চারটি সংসদীয় আসনে কারা নির্বাচনের মাঠে থাকছেন—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রায় এক হাজার ৮২১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সীমান্তবর্তী জেলা নীলফামারীতে জাতীয় সংসদের আসন রয়েছে মোট চারটি। জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি আসনে বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা)

ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে বিএনপির পক্ষে শরিক দল বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।

এছাড়া বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), মো. রফিকুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী), মো. মখদুম আজম মাশরাফী (জেপি) ও জেবেল রহমান গনি (ন্যাপ)।

নীলফামারী-২ (সদর)

নীলফামারী সদর আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধতা পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)।

এছাড়াও বৈধ প্রার্থীরা হলেন— অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ (জামায়াত), হাসিবুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সারোয়ারুল আলম বাবু (খেলাফত মজলিস) ও সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ)।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. সাইফুল্লা ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়নপত্র কাগজপত্রে গড়মিল থাকায় বাতিল করা হয়েছে।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)

জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত সৈয়দ আলী ও জামায়াত মনোনীত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রোহান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ–সৈয়দপুর)

কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন।

এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. সিদ্দিকুল আলম (জাতীয় পার্টি), মো. মাইদুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী) এবং নুর মোহাম্মদ (এলডিপি)।

সার্বিক চিত্র

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর চারটি আসনে মোট ৪৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৩৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে কাগজপত্রে ত্রুটি ও এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিকভাবে না পাওয়ায় ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। সে লক্ষ্যেই প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নীলফামারীতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী জেলায় দিন দিন বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। মনোনয়ন দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ায় চারটি সংসদীয় আসনে কারা নির্বাচনের মাঠে থাকছেন—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রায় এক হাজার ৮২১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সীমান্তবর্তী জেলা নীলফামারীতে জাতীয় সংসদের আসন রয়েছে মোট চারটি। জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি আসনে বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা)

ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে বিএনপির পক্ষে শরিক দল বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।

এছাড়া বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), মো. রফিকুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী), মো. মখদুম আজম মাশরাফী (জেপি) ও জেবেল রহমান গনি (ন্যাপ)।

নীলফামারী-২ (সদর)

নীলফামারী সদর আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধতা পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)।

এছাড়াও বৈধ প্রার্থীরা হলেন— অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ (জামায়াত), হাসিবুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সারোয়ারুল আলম বাবু (খেলাফত মজলিস) ও সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ)।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. সাইফুল্লা ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়নপত্র কাগজপত্রে গড়মিল থাকায় বাতিল করা হয়েছে।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)

জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত সৈয়দ আলী ও জামায়াত মনোনীত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রোহান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ–সৈয়দপুর)

কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন।

এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. সিদ্দিকুল আলম (জাতীয় পার্টি), মো. মাইদুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী) এবং নুর মোহাম্মদ (এলডিপি)।

সার্বিক চিত্র

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর চারটি আসনে মোট ৪৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৩৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে কাগজপত্রে ত্রুটি ও এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিকভাবে না পাওয়ায় ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। সে লক্ষ্যেই প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ