গর্ভাবস্থায় নারীদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা। হরমোনগত পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও বংশগত কারণ মিলেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের (জিডিএম) হার প্রতি বছর বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রোগ সময়মতো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মা ও শিশুর উভয়ের জন্যই গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকরা জানান, গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা থেকে নিঃসৃত কিছু বিশেষ হরমোন শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। গর্ভধারণের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক—বিশেষ করে ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে—গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময় স্ক্রিনিং পরীক্ষা করানোকে বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচনা করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে, পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থাকলে, আগে বড় ওজনের শিশু জন্ম দিলে কিংবা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে (পিসিওএস) আক্রান্ত হলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি যারা পূর্বে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, তাদের পরবর্তী গর্ভধারণেও একই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। তবে ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত পিপাসা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বারবার ক্ষুধা লাগা বা দৃষ্টিতে ঝাপসা দেখা—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তারা জানান, এসব উপসর্গ গর্ভাবস্থার সাধারণ পরিবর্তনের সঙ্গেও মিলে যেতে পারে, তাই স্ক্রিনিং ছাড়া সঠিকভাবে শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, জটিল প্রসব এবং ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে শিশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন (ম্যাক্রোসোমিয়া), জন্মের পর রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সময়ের আগে জন্মের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শিশুর স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে, যা অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আর ভয় নয়—বরং সহজেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে মা এবং শিশুর উভয়েরই সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। চাইলে আমি এই রিপোর্টটি সম্পাদনা, সংক্ষেপণ বা নতুন শিরোনামে সাজিয়েও দিতে পারি।
আপনার মতামত লিখুন