অনেক রেকর্ডের ম্যাচে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে বিহার। ভারতের ঘরোয়া ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট বিজয় হাজারে ট্রফিতে বুধবার আরুনাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৫৭৪ রান তোলে তারা, যা এই সংস্করণে নতুন বিশ্ব রেকর্ড।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়ার পথে বিহারের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন তিন ব্যাটসম্যান। ওপেনিংয়ে নেমে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসে শক্ত ভিত গড়ে দেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। তিন নম্বরে নেমে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন আয়ুশ লোহারুকা। পরে তাদের দুজনকে ছাড়িয়ে যান অধিনায়ক সাকিবুল গানি, যিনি ৪০ বলে ১২৮ রানের অপরাজিত বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।
এই সংস্করণে আগের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি ছিল ভারতেরই তামিল নাড়ুর। ২০২২ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে তারা আরুনাচল প্রদেশের বিপক্ষেই ২ উইকেটে ৫০৬ রান করেছিল। কাকতালীয়ভাবে এবারও প্রতিপক্ষ ছিল আরুনাচল প্রদেশ।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতেই ভারতের বিস্ময়-বালক সুরিয়াভানশি করেন ১৯০ রান। ৮৪ বলের ইনিংসটিতে বাউন্ডারি থেকেই আসে ১৫৪ রান; তিনি মারেন ১৫টি ছক্কা ও ১৬টি চার। ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে এই ইনিংস খেলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন তিনি, ভেঙে দেন ১৯৮৬ সালে ১৫ বছর ২০৯ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার জাহুর এলাহির রেকর্ড।
বিধ্বংসী ইনিংসটির পথে সুরিয়াভানশি ৩৬ বলে সেঞ্চুরি এবং ৫৯ বলে দেড়শ স্পর্শ করেন। এতে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম দেড়শ ছোঁয়ার বিশ্ব রেকর্ডও গড়েন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ৬৪ বলে দেড়শ করেছিলেন। এক সময় মনে হচ্ছিল দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভাঙবেন সুরিয়াভানশি, তবে শেষ পর্যন্ত ১০ রানের জন্য সেই কীর্তি হাতছাড়া হয়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড নিউ জিল্যান্ডের চ্যাড বোয়েসের, ১০৩ বলে।
চারে নেমে আয়ুশ লোহারুকা ৮ ছক্কা ও ১১ চারে ৫৬ বলে ১১৬ রান করেন। এরপর নামা সাকিবুল গানি ১২ ছক্কা ও ১০ চারে ৪০ বলে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ইনিংসটির পথে তিনি ৩২ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম শতকের রেকর্ড। একই দিনে কার্নাটাকার বিপক্ষে ঝাড়খণ্ডের হয়ে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন ইশান কিষান।
এতদিন ভারতের দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল আনমোলপ্রিত সিংয়ের। গত বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতেই পাঞ্জাবের হয়ে আরুনাচলের বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরি ২৯ বলে—অস্ট্রেলিয়ার জেইক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক ২০২৩ সালে তাসমানিয়ার বিপক্ষে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই কীর্তি গড়েন। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরি এবি ডি ভিলিয়ার্সের, ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে।
রাঁচিতে এদিন সুরিয়াভানশির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৪.৩ ওভারে ১৫৮ রান করে ভাঙে বিহারের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার মাঙ্গাল মাহরউর করেন ৩৩ রান। তিনে নেমে পিয়ুশ সিং ২ ছক্কা ও ৭ চারে ৬৬ বলে ৭৭ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে আয়ুশ ও সাকিবুল মিলে দলকে পাঁচশর ঘরে পৌঁছে দেন। আয়ুশ সেঞ্চুরি করে ফিরলে ৪৬ ওভার চলছিল। পরের চার ওভারে সাকিবুলের তাণ্ডবে শেষ ২৫ বলে ৮৯ রান যোগ হয়, আর সেখানেই ইতিহাস গড়ে বিহার।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
অনেক রেকর্ডের ম্যাচে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে বিহার। ভারতের ঘরোয়া ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট বিজয় হাজারে ট্রফিতে বুধবার আরুনাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৫৭৪ রান তোলে তারা, যা এই সংস্করণে নতুন বিশ্ব রেকর্ড।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়ার পথে বিহারের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন তিন ব্যাটসম্যান। ওপেনিংয়ে নেমে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসে শক্ত ভিত গড়ে দেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। তিন নম্বরে নেমে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন আয়ুশ লোহারুকা। পরে তাদের দুজনকে ছাড়িয়ে যান অধিনায়ক সাকিবুল গানি, যিনি ৪০ বলে ১২৮ রানের অপরাজিত বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।
এই সংস্করণে আগের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি ছিল ভারতেরই তামিল নাড়ুর। ২০২২ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে তারা আরুনাচল প্রদেশের বিপক্ষেই ২ উইকেটে ৫০৬ রান করেছিল। কাকতালীয়ভাবে এবারও প্রতিপক্ষ ছিল আরুনাচল প্রদেশ।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতেই ভারতের বিস্ময়-বালক সুরিয়াভানশি করেন ১৯০ রান। ৮৪ বলের ইনিংসটিতে বাউন্ডারি থেকেই আসে ১৫৪ রান; তিনি মারেন ১৫টি ছক্কা ও ১৬টি চার। ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে এই ইনিংস খেলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন তিনি, ভেঙে দেন ১৯৮৬ সালে ১৫ বছর ২০৯ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার জাহুর এলাহির রেকর্ড।
বিধ্বংসী ইনিংসটির পথে সুরিয়াভানশি ৩৬ বলে সেঞ্চুরি এবং ৫৯ বলে দেড়শ স্পর্শ করেন। এতে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম দেড়শ ছোঁয়ার বিশ্ব রেকর্ডও গড়েন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ৬৪ বলে দেড়শ করেছিলেন। এক সময় মনে হচ্ছিল দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভাঙবেন সুরিয়াভানশি, তবে শেষ পর্যন্ত ১০ রানের জন্য সেই কীর্তি হাতছাড়া হয়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড নিউ জিল্যান্ডের চ্যাড বোয়েসের, ১০৩ বলে।
চারে নেমে আয়ুশ লোহারুকা ৮ ছক্কা ও ১১ চারে ৫৬ বলে ১১৬ রান করেন। এরপর নামা সাকিবুল গানি ১২ ছক্কা ও ১০ চারে ৪০ বলে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ইনিংসটির পথে তিনি ৩২ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম শতকের রেকর্ড। একই দিনে কার্নাটাকার বিপক্ষে ঝাড়খণ্ডের হয়ে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন ইশান কিষান।
এতদিন ভারতের দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল আনমোলপ্রিত সিংয়ের। গত বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতেই পাঞ্জাবের হয়ে আরুনাচলের বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরি ২৯ বলে—অস্ট্রেলিয়ার জেইক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক ২০২৩ সালে তাসমানিয়ার বিপক্ষে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই কীর্তি গড়েন। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরি এবি ডি ভিলিয়ার্সের, ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে।
রাঁচিতে এদিন সুরিয়াভানশির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৪.৩ ওভারে ১৫৮ রান করে ভাঙে বিহারের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার মাঙ্গাল মাহরউর করেন ৩৩ রান। তিনে নেমে পিয়ুশ সিং ২ ছক্কা ও ৭ চারে ৬৬ বলে ৭৭ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে আয়ুশ ও সাকিবুল মিলে দলকে পাঁচশর ঘরে পৌঁছে দেন। আয়ুশ সেঞ্চুরি করে ফিরলে ৪৬ ওভার চলছিল। পরের চার ওভারে সাকিবুলের তাণ্ডবে শেষ ২৫ বলে ৮৯ রান যোগ হয়, আর সেখানেই ইতিহাস গড়ে বিহার।

আপনার মতামত লিখুন