ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে বড় সুখবর


নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে বড় সুখবর
সংগৃহীত

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার। খুব শিগগিরই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। তবে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটিতে নতুন বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডেমি-অফিশিয়াল বা ডিও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে সরকার আশা করছে।

এর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিনা খরচে যেতে পারেন ১০ হাজার কর্মী

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো-কস্ট’ ব্যবস্থায় নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া সম্মত হয়েছে বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফার কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানো হবে। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হবে না বলে সরকার জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচন করেছে। পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী বা অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

দুই লাখ কর্মীর বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মালয়েশিয়ার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানো শুরু হওয়ার কথা।

তবে দুই লাখ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল পরে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ফলে প্রকৃত নিয়োগসংখ্যা ও সময়সূচির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

দালালদের টাকা না দেওয়ার সতর্কতা

শ্রমবাজার খোলার খবরে প্রতারণা ঠেকাতে আগেই সতর্ক করেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দিতে কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ওমানসহ যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব শ্রমবাজার চালু ও সম্প্রসারণেও কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বোয়েসেলের মাধ্যমে কম খরচে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা খরচে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার পথ শিগগিরই আরও সহজ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে বড় সুখবর

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার। খুব শিগগিরই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। তবে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটিতে নতুন বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডেমি-অফিশিয়াল বা ডিও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে সরকার আশা করছে।

এর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিনা খরচে যেতে পারেন ১০ হাজার কর্মী

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো-কস্ট’ ব্যবস্থায় নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া সম্মত হয়েছে বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফার কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানো হবে। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হবে না বলে সরকার জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচন করেছে। পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী বা অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

দুই লাখ কর্মীর বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মালয়েশিয়ার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানো শুরু হওয়ার কথা।

তবে দুই লাখ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল পরে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ফলে প্রকৃত নিয়োগসংখ্যা ও সময়সূচির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

দালালদের টাকা না দেওয়ার সতর্কতা

শ্রমবাজার খোলার খবরে প্রতারণা ঠেকাতে আগেই সতর্ক করেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দিতে কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ওমানসহ যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব শ্রমবাজার চালু ও সম্প্রসারণেও কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বোয়েসেলের মাধ্যমে কম খরচে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা খরচে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার পথ শিগগিরই আরও সহজ হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ