ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, এটি পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, এটি পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং সরকারের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে চলতি দশকে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও তুলে ধরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে এবং দেশের সামনে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা।”

তারেক রহমান জানান, রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই দশকের মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।

উৎপাদনকেন্দ্র হবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদনকেন্দ্র ও প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। আগামী ধাপের প্রবৃদ্ধিতে ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবকাঠামো ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এক দিন আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনাটির কিছু বিষয় পর্যালোচনা শেষে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে শতকোটি ডলারের অর্থায়ন

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দিনই ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে আইএসডিবির সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় প্রকল্পটিতে প্রায় ১ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবির পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।

প্রধানমন্ত্রী এই অর্থায়ন চুক্তিকে শুধু একটি আর্থিক লেনদেন হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে আইএসডিবির সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তিন গুণ হবে তেল পরিশোধন সক্ষমতা

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তেল পরিশোধন সক্ষমতা বছরে বর্তমান ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় সক্ষমতা তিন গুণ হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে, পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেই ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে চায় সরকার।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, এটি পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং সরকারের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে চলতি দশকে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও তুলে ধরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে এবং দেশের সামনে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা।”

তারেক রহমান জানান, রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই দশকের মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।

উৎপাদনকেন্দ্র হবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদনকেন্দ্র ও প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। আগামী ধাপের প্রবৃদ্ধিতে ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবকাঠামো ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এক দিন আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনাটির কিছু বিষয় পর্যালোচনা শেষে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে শতকোটি ডলারের অর্থায়ন

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দিনই ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে আইএসডিবির সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় প্রকল্পটিতে প্রায় ১ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবির পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।

প্রধানমন্ত্রী এই অর্থায়ন চুক্তিকে শুধু একটি আর্থিক লেনদেন হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে আইএসডিবির সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তিন গুণ হবে তেল পরিশোধন সক্ষমতা

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তেল পরিশোধন সক্ষমতা বছরে বর্তমান ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় সক্ষমতা তিন গুণ হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে, পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেই ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে চায় সরকার।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ