ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালকে ১০ লাখ ডলার সহায়তা বাংলাদেশের


নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালকে ১০ লাখ ডলার সহায়তা বাংলাদেশের
সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির চলমান ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নেপালের রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

বাংলাদেশের দেওয়া ১০ লাখ ডলার সরাসরি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশটিতে চলমান ত্রাণ বিতরণ, পুনরুদ্ধার এবং অন্যান্য মানবিক কার্যক্রমে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে লেখা একটি চিঠিও রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর কাছে হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির। চিঠিতে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন রাসুওয়াগাধি থেকে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। এতে রাসুওয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ানসহ বিভিন্ন এলাকার জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেপাল সরকারের ৩ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে, যাদের মধ্যে তিন শতাধিক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে অনুসন্ধান ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান থাকায় এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।

দুর্যোগের পর থেকেই নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ। গত ২৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ঢাকা। পরদিন নেপালে তাঁবু, মশারি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট, বেলচা, স্লিপিং ব্যাগ, পানির পাত্র ও বডি ব্যাগসহ ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

এ ছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানান।

এর আগে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশের এই ১০ লাখ ডলারের সহায়তা এমন সময়ে দেওয়া হলো, যখন ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির পর উদ্ধার, পুনর্বাসন ও জরুরি সেবা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল। নেপাল সরকারও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালকে ১০ লাখ ডলার সহায়তা বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির চলমান ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নেপালের রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

বাংলাদেশের দেওয়া ১০ লাখ ডলার সরাসরি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশটিতে চলমান ত্রাণ বিতরণ, পুনরুদ্ধার এবং অন্যান্য মানবিক কার্যক্রমে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে লেখা একটি চিঠিও রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর কাছে হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির। চিঠিতে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন রাসুওয়াগাধি থেকে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। এতে রাসুওয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ানসহ বিভিন্ন এলাকার জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেপাল সরকারের ৩ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে, যাদের মধ্যে তিন শতাধিক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে অনুসন্ধান ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান থাকায় এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।

দুর্যোগের পর থেকেই নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ। গত ২৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ঢাকা। পরদিন নেপালে তাঁবু, মশারি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট, বেলচা, স্লিপিং ব্যাগ, পানির পাত্র ও বডি ব্যাগসহ ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

এ ছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানান।

এর আগে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশের এই ১০ লাখ ডলারের সহায়তা এমন সময়ে দেওয়া হলো, যখন ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির পর উদ্ধার, পুনর্বাসন ও জরুরি সেবা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল। নেপাল সরকারও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ