ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে বাদী-বিবাদী মুখোমুখি পাওয়ার ট্রীলার আটক


মোঃ জাকির হাসান (জিমি)
মোঃ জাকির হাসান (জিমি)
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে বাদী-বিবাদী মুখোমুখি পাওয়ার ট্রীলার আটক

বিরামপুরে ১৪৪ ধারার জমিতে ধান নষ্টের অভিযোগ

আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে বাদী-বিবাদী মুখোমুখি, পাওয়ার টিলার আটক

বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি

মোঃ জাকির হাসান জিমি, 

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ 

দিনাজপুরের বিরামপুরে আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাওয়ার টিলার আটক করে বিবাদী পক্ষ নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার শিয়ালা মৌজার বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (বিরামপুর), দিনাজপুরে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মোকদ্দমা নং-২৭০ পি/২০২৬। মামলার নোটিশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নালিশী সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ রয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত কর্তৃক ধার্য তারিখ ১৭/০৯/২০২৬।

আদালতের নোটিশ অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানাধীন শিয়ালা মৌজায় অবস্থিত। জমির তফসিলে জে.এল. নং-১০১, খতিয়ান এস.এ.-১৪, খারিজ-১৩৮, আর.এস.-৩৩, দাগ নং-সাবেক ২৯৮, হাল ১৭০ এবং মোট ১ একর জমির মধ্যে ৫০ শতক জমির কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিবাদী পক্ষের অভিযোগ, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা মামলার পর থেকে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করছেন না। জমিটি তাদের বাড়ির পূর্ব দিকে এবং রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় বাড়ি থেকে মাত্র ২-৩ মিনিটের পথ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে তারা খবর পান, বাদী পক্ষ ওই জমিতে গিয়ে মামলার পূর্বে বিবাদী পক্ষের রোপণ করা ধান উপড়ে ফেলে ও কেটে ফেলে।

খবর পেয়ে বিবাদী পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, একটি পাওয়ার টিলার দিয়ে রোপণ করা ধানের জমিতে কাজ করে ফসল নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় তারা বাধা দেন এবং পাওয়ার টিলারটি আটক করেন বলে দাবি করেন বিবাদী পক্ষ।

ঘটনার সময় বিবাদী পক্ষ তাদের পরিচিত সংবাদকর্মী দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি মোঃ জাকির হাসান জিমিকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এ বিষয়ে বিরামপুর থানাধীন দিওর ইউনিয়নের বিট অফিসার এএসআই মোঃ লিটন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে বলে এসেছি—কোর্টের আদেশ কেউ অমান্য করতে পারবেন না। কোর্টের আদেশ অমান্য করা আইন লঙ্ঘনের শামিল। কেউ আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা মহামান্য আদালত নিবেন।

ঘটনাস্থলে থাকা পাওয়ার টিলারটি ‘সাইফিং’ চায়না ব্র্যান্ডের বলে জানা গেছে। এর মালিক মোঃ জুয়েল হোসেন, পিতা-মৃত ফজলু হক, গ্রাম-কাদিপুর, উপজেলা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর। ঘটনার পর পাওয়ার টিলারটি বিবাদী পক্ষের হেফাজতে আছে বলে জানান।

এদিকে, আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে ধান নষ্ট করার অভিযোগের বিষয়ে বাদী পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে বাদী-বিবাদী মুখোমুখি পাওয়ার ট্রীলার আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিরামপুরে ১৪৪ ধারার জমিতে ধান নষ্টের অভিযোগ


আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে বাদী-বিবাদী মুখোমুখি, পাওয়ার টিলার আটক


বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি

মোঃ জাকির হাসান জিমি, 

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ 


দিনাজপুরের বিরামপুরে আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাওয়ার টিলার আটক করে বিবাদী পক্ষ নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার শিয়ালা মৌজার বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (বিরামপুর), দিনাজপুরে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মোকদ্দমা নং-২৭০ পি/২০২৬। মামলার নোটিশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নালিশী সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ রয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত কর্তৃক ধার্য তারিখ ১৭/০৯/২০২৬।

আদালতের নোটিশ অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানাধীন শিয়ালা মৌজায় অবস্থিত। জমির তফসিলে জে.এল. নং-১০১, খতিয়ান এস.এ.-১৪, খারিজ-১৩৮, আর.এস.-৩৩, দাগ নং-সাবেক ২৯৮, হাল ১৭০ এবং মোট ১ একর জমির মধ্যে ৫০ শতক জমির কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিবাদী পক্ষের অভিযোগ, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা মামলার পর থেকে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করছেন না। জমিটি তাদের বাড়ির পূর্ব দিকে এবং রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় বাড়ি থেকে মাত্র ২-৩ মিনিটের পথ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে তারা খবর পান, বাদী পক্ষ ওই জমিতে গিয়ে মামলার পূর্বে বিবাদী পক্ষের রোপণ করা ধান উপড়ে ফেলে ও কেটে ফেলে।

খবর পেয়ে বিবাদী পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, একটি পাওয়ার টিলার দিয়ে রোপণ করা ধানের জমিতে কাজ করে ফসল নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় তারা বাধা দেন এবং পাওয়ার টিলারটি আটক করেন বলে দাবি করেন বিবাদী পক্ষ।

ঘটনার সময় বিবাদী পক্ষ তাদের পরিচিত সংবাদকর্মী দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি মোঃ জাকির হাসান জিমিকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এ বিষয়ে বিরামপুর থানাধীন দিওর ইউনিয়নের বিট অফিসার এএসআই মোঃ লিটন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে বলে এসেছি—কোর্টের আদেশ কেউ অমান্য করতে পারবেন না। কোর্টের আদেশ অমান্য করা আইন লঙ্ঘনের শামিল। কেউ আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা মহামান্য আদালত নিবেন।

ঘটনাস্থলে থাকা পাওয়ার টিলারটি ‘সাইফিং’ চায়না ব্র্যান্ডের বলে জানা গেছে। এর মালিক মোঃ জুয়েল হোসেন, পিতা-মৃত ফজলু হক, গ্রাম-কাদিপুর, উপজেলা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর। ঘটনার পর পাওয়ার টিলারটি বিবাদী পক্ষের হেফাজতে আছে বলে জানান।

এদিকে, আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে ধান নষ্ট করার অভিযোগের বিষয়ে বাদী পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ