ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঢাকায় চার দূতাবাসে ই-মেইলে হুমকি, চাঁদা দাবি ও বোমা হামলার হুমকিতে নিরাপত্তা জোরদার


প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

ঢাকায় চার দূতাবাসে ই-মেইলে হুমকি, চাঁদা দাবি ও বোমা হামলার হুমকিতে নিরাপত্তা জোরদার

ঢাকায় অবস্থিত চারটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা দাবি ও হামলার হুমকির ঘটনায় রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ চারটি দূতাবাস এবং কয়েকটি সরকারি দপ্তরে একই ধরনের হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের দূতাবাসে পাঠানো ই-মেইলে অর্থ দাবি করার পাশাপাশি টাকা না দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে দূতাবাস ভবনে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অর্থ পাঠানোর জন্য একাধিক বিকাশ ও নগদ নম্বরের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির ঠিকানাও দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ১৭ আগস্ট ‘ইউসুফ খান’ নাম ব্যবহার করে একটি ঠিকানা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ই-মেইল ঠিকানায় প্রথম হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। দুই দিন পর ১৯ আগস্ট ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে আবারও ই-মেইল পাঠানো হয়। একই সময়ে রাশিয়া ও চীনের দূতাবাসের কনস্যুলার ও সাংস্কৃতিক শাখাতেও একই ধরনের বার্তা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি চক্র ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। পুলিশের ধারণা, এর পেছনে কাউকে হয়রানি, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা কূটনীতিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

হুমকির বার্তায় যেসব বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সূত্র ধরে তিন-চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিরীহ ব্যক্তিদের মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ব্যবহার করে প্রকৃত হুমকিদাতারা নিজেদের পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করে থাকতে পারে।

ঘটনাটি তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে। হুমকিদাতাদের ই-মেইলের ডিজিটাল উৎস, ব্যবহৃত আর্থিক হিসাব, ক্রিপ্টো ওয়ালেট এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হুমকির পর গুলশান ও বারিধারাসহ রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দূতাবাসগুলোর সামনে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঢাকায় চার দূতাবাসে ই-মেইলে হুমকি, চাঁদা দাবি ও বোমা হামলার হুমকিতে নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকায় অবস্থিত চারটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা দাবি ও হামলার হুমকির ঘটনায় রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ চারটি দূতাবাস এবং কয়েকটি সরকারি দপ্তরে একই ধরনের হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের দূতাবাসে পাঠানো ই-মেইলে অর্থ দাবি করার পাশাপাশি টাকা না দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে দূতাবাস ভবনে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অর্থ পাঠানোর জন্য একাধিক বিকাশ ও নগদ নম্বরের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির ঠিকানাও দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ১৭ আগস্ট ‘ইউসুফ খান’ নাম ব্যবহার করে একটি ঠিকানা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ই-মেইল ঠিকানায় প্রথম হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। দুই দিন পর ১৯ আগস্ট ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে আবারও ই-মেইল পাঠানো হয়। একই সময়ে রাশিয়া ও চীনের দূতাবাসের কনস্যুলার ও সাংস্কৃতিক শাখাতেও একই ধরনের বার্তা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি চক্র ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। পুলিশের ধারণা, এর পেছনে কাউকে হয়রানি, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা কূটনীতিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

হুমকির বার্তায় যেসব বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সূত্র ধরে তিন-চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিরীহ ব্যক্তিদের মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ব্যবহার করে প্রকৃত হুমকিদাতারা নিজেদের পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করে থাকতে পারে।

ঘটনাটি তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে। হুমকিদাতাদের ই-মেইলের ডিজিটাল উৎস, ব্যবহৃত আর্থিক হিসাব, ক্রিপ্টো ওয়ালেট এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হুমকির পর গুলশান ও বারিধারাসহ রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দূতাবাসগুলোর সামনে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ