জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার সব উপজেলায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামীসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে বক্তারা জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তা বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও জনগণের প্রত্যাশিত অধিকার, নিরাপত্তা ও সুশাসন এখনো নিশ্চিত হয়নি। তার ভাষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন না হওয়ায় জনগণ এখনও হয়রানি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হতো। জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, বরং নিপীড়িত মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল।
উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল ফজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, এনসিপি নেতা মুহাম্মদ ফারুকসহ স্থানীয় নেতারা।
কক্সবাজার শহরে বিকেলে কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক জে এইচ এম ইউনুছ, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল হক শায়েকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মহেশখালী, রামু, ঈদগাঁও, পেকুয়া, টেকনাফ, মাতামুহুরী ও চকরিয়া উপজেলাতেও পৃথকভাবে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টেকনাফ পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ থেকে বের হওয়া গণমিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিল্কি রিসোর্টের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
উখিয়ার সমাবেশে বক্তারা সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার সব উপজেলায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামীসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে বক্তারা জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তা বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও জনগণের প্রত্যাশিত অধিকার, নিরাপত্তা ও সুশাসন এখনো নিশ্চিত হয়নি। তার ভাষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন না হওয়ায় জনগণ এখনও হয়রানি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হতো। জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, বরং নিপীড়িত মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল।
উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল ফজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, এনসিপি নেতা মুহাম্মদ ফারুকসহ স্থানীয় নেতারা।
কক্সবাজার শহরে বিকেলে কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক জে এইচ এম ইউনুছ, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল হক শায়েকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মহেশখালী, রামু, ঈদগাঁও, পেকুয়া, টেকনাফ, মাতামুহুরী ও চকরিয়া উপজেলাতেও পৃথকভাবে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টেকনাফ পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ থেকে বের হওয়া গণমিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিল্কি রিসোর্টের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
উখিয়ার সমাবেশে বক্তারা সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন