ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মোস্তফা জামান চৌধুরী

মোস্তফা জামান চৌধুরী

কক্সেস বাজার জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার, উখিয়া


সংসদে হানিমুন পিরিয়ড শেষ, আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিরোধী দল

সংসদে হঠাৎ রাজনৈতিক উত্তাপ, বিতর্ক ও অবশেষে ওয়াকআউট যেন সংঘাতের দিকে যাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক সমঝোতা, সংলাপ ও সমঝোতার জরুরি। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার,ওয়াদা, হ্যাঁ ভোট বাস্তবায়ন জরুরি।২৭ আগস্ট'২৬ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য, প্রতিবাদ, বিরোধী দলের ওয়াকআউট,শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহর সাহসী স্ট্যান্ড ও পারফর্মেন্স দেখেতো বুঝা যাচ্ছে সংসদে হানিমুন পিরিয়ড শেষ। আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন,বক্তব্য আপনি দিবেন নাকি আমি দিব? আমার কথার ভিতরে আপনি এত বাধা দিচ্ছেন কেন? তিনি আরো বলেন মাননীয় স্পিকার,"আমার বক্তব্যের ভিতরেই এত কমেন্টস করলে আমার কথা বলার প্রয়োজন নাই, সালাউদ্দিন সাহেব এই সংসদে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেছেন, এই সংসদে আমরা কারোর ছাত্র হতে আসি নাই। আপনার শিক্ষকতা করতে মন চাইলে একটা ভার্সিটি খুলুন তারপর শিক্ষকতা করুন। সেখানে যার ইচ্ছা হবে সে টিচিং গ্রহণ করবে।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষা পার্লামেন্টের ভাষা নয়, এটা এক ধরনের পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম।বিরোধীদলের বর্তমান স্ট্যান্ড চমৎকারভাবে অনুধাবিত হচ্ছে । বিরোধীদলকে যেই জায়গায় দেখতে গলা ফাটাচ্ছেন অনেকে; সেই জায়গাতেই বিরোধীদল অলরেডি প্রত্যাবর্তন শুরু করেছে। পুরাপুরি দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পরবর্তী স্ট্যান্ড ও কর্মসূচি কি হবে তার উপর। গতকাল সংসদ অধিবেশন চলাকালে জোটের মধ্যে যে গুড কম্প্রোমাইজড  দেখা গেছে এবং সংসদে আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে যে সিরিয়াস কম্বাইন্ড প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে; এটা স্রেফ প্রতিবাদ ছিল না৷ শক্তিশালী জোটের বার্তাও ফুটে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী জোট রক্ষার্থে যে বিশেষ পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে এনসিপি আপাতত যথেষ্ট সমর্থন,সহযোগিতা ও সমন্বয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতের সাথে।আগামী মাসের শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জোটের সকল দলকে নিয়েই দীর্ঘদিনের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে বিরোধীদলের লংমার্চ শুরু হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক বিভাগে লংমার্চ হবে। সবশেষে নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে জনগণের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে দেওয়া রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধীদলের দীর্ঘ এই কর্মসূচি শেষ হবে। এরপরও যদি সরকার গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং দেশের পরিস্থিতির উন্নয়ন না করে তবে বিরোধীদল আরো কঠিন কর্মসূচির দিকে যাবে তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে বর্তমান সংসদ অধিবেশনের উত্তাপ দেখে।এই বিরাট রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জোটের দলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। সরকার অলরেডি দেশের আইন শৃঙ্খলা, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবারাহে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে; চরমভাবে চাপেও আছে। এক্ষেত্রে বিরোধীদলের এই বাস্তবসম্মত কর্মসূচি সরকারের ভিত্তি ভালোই নড়বড়ে করে দিবে। সরকার একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করবে; অথবা ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করবে। এটাই বর্তমান সরকারের জন্য ইয়েলো সিগন্যাল। আর সরকার যদি সংযত ও কারেকশন না হয় তাহলে রেড সিগন্যাল শুরু হবে অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস সে বার্তা দেয়। অতীতে ওবায়দুল কাদের কটাক্ষ করে বলতেন, ফখরুল সাহেব বলে আমরা নাকি পালানোর পথ পাবো না, অলিগলি খুঁজে পাবো না । আর টেলিভিশনে দেখলাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু দৌড়ায় আর দৌড়ায়। তার এই বেফাঁস মন্তব্য ও খোঁচা মারা করার পরিনতি চব্বিশ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এদেশের মানুষ দেখেছে।সুতরাং রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে সালাউদ্দিন সাহেবেরা শিক্ষা না নিলে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তা ভাবিয়ে তুলেছে। তাই জুলাই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য অপরিহার্য।জামায়াতের নেতৃবৃন্দ মনে করেন সংসদের হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সরকার বিরোধীদলের সুযোগ যথাযথ ব্যবহার করেনি। সুযোগটি লুপে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হওয়ার পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। সুতরাং ১১দলীয় ঐক্যজোট তথা বিরুধী দলের এখন আর নরম নরম কুসুম কুসুম আলাপ চলবে না। সালাউদ্দিন সাহেবকে দিয়ে বিরোধীদলের বিরোধিতা চূড়ান্তরূপে শুরু হয়েছে। এখন থেকে সরকার হয় সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করবে; অথবা বিরোধীদলের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি সরকারের ভিত্তি নড়বড়ে করে দেবে। এটাই গতকাল সংসদ অধিবেশনে আমীরের জামায়াত ও বিরোধী দলীয় সাংসদের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট থেকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়। যা দেখে বিরোধীদলের খেলা শুরু হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। আর ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সুন্দরভাবেই এই খেলায় জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার যদি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক, দ্রব্য মূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সকল সমস্যার সমাধানে বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে কাজ করে, হ্যাঁ ভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নয়নশীল এক নতুন বাংলাদেশ। তাই রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা হলে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও স্থিতিশীল কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ইনশাআল্লাহ।

সংসদে হানিমুন পিরিয়ড শেষ, আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিরোধী দল