দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ বা পরিণতি আদালতই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকার নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়; বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের দায় কতটুকু, তা তদন্তাধীন রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, “একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর যদি আমরা ‘জুলাই কার’ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ি, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণরায়ের বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানানো হলেও অনেকে এখনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি। তাঁর ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনীই একটি সংস্কার। তাই মাঠের রাজনীতি বা বিভিন্ন সংস্কার পরিষদের আলোচনার শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে ঘটেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল এবং অন্যান্য বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যখন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন রক্তাক্ত আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সম্পাদকসহ বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য কার্যকর হবে। তিনি বলেন, “বারবার জুলাই আসে না, বারবার একাত্তর আসে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করতে না পারলে আমরা ইতিহাসের কাছে দায়ী থাকব।”

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ বা পরিণতি আদালতই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকার নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়; বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের দায় কতটুকু, তা তদন্তাধীন রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, “একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর যদি আমরা ‘জুলাই কার’ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ি, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণরায়ের বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানানো হলেও অনেকে এখনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি। তাঁর ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনীই একটি সংস্কার। তাই মাঠের রাজনীতি বা বিভিন্ন সংস্কার পরিষদের আলোচনার শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে ঘটেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল এবং অন্যান্য বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যখন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন রক্তাক্ত আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সম্পাদকসহ বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য কার্যকর হবে। তিনি বলেন, “বারবার জুলাই আসে না, বারবার একাত্তর আসে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করতে না পারলে আমরা ইতিহাসের কাছে দায়ী থাকব।”

আপনার মতামত লিখুন