বরের জন্য সাজানো লাল-নীল আলোকসজ্জা, উঠানে টাঙানো সুবিশাল প্যান্ডেল, আর চারদিকে সুস্বাদু খাবারের তাজা ঘ্রাণ—সব আয়োজনই সম্পন্ন ছিল। অতিথিরাও এসে আসন গ্রহণ করেছিলেন, অপেক্ষা শুধু বরযাত্রীর। তবে সব প্রস্তুতি থমকে গেল উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বন্ধ হলো ১৩ বছর বয়সী ৮ম শ্রেণির এক কিশোরী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কনের পিতাকে অর্থদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার লিখিত মুচলেকা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকারের নেতৃত্বে এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের মৃত মো. গাজীউর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) ও মোছা. নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী কন্যা ইসরাতুল জান্নাত স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মো. মাহফুজ আহমেদ অন্তরের (২২) বিয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল। কনে ও বর সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন। প্রবাসফেরত বাবা কোমলমতি মেয়ের ভবিষ্যতের তোয়াক্কা না করে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই তাকে ছাঁদনা তলায় পাঠানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে মুহূর্তের মধ্যেই অ্যাকশনে যান কুলিয়ারচরের ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার। তিনি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর একটি চৌকস দল নিয়ে আচমকা উপস্থিত হন কনের বাড়িতে। প্রশাসনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। কনের বাবা-মা প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ইউএনও’র জিজ্ঞাসাবাদে সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন। কনের বয়স মাত্র ১৩ বছর হওয়ায় এটি ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের আয়োজন করে আইন অমান্য করায় আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। কনের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন এবং মেয়ে ১৮ বছরে পদার্পণ না করা পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন। অভিযান পরিচালনাকালে কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এসআই অর্পণ বিশ্বাস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার মো. ওবায়দুল্লাহ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার দৃঢ়কণ্ঠে জানান, "বাল্যবিবাহ কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি যা একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে উপজেলা প্রশাসনের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
বরের জন্য সাজানো লাল-নীল আলোকসজ্জা, উঠানে টাঙানো সুবিশাল প্যান্ডেল, আর চারদিকে সুস্বাদু খাবারের তাজা ঘ্রাণ—সব আয়োজনই সম্পন্ন ছিল। অতিথিরাও এসে আসন গ্রহণ করেছিলেন, অপেক্ষা শুধু বরযাত্রীর। তবে সব প্রস্তুতি থমকে গেল উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বন্ধ হলো ১৩ বছর বয়সী ৮ম শ্রেণির এক কিশোরী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কনের পিতাকে অর্থদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার লিখিত মুচলেকা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকারের নেতৃত্বে এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের মৃত মো. গাজীউর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) ও মোছা. নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী কন্যা ইসরাতুল জান্নাত স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মো. মাহফুজ আহমেদ অন্তরের (২২) বিয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল। কনে ও বর সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন। প্রবাসফেরত বাবা কোমলমতি মেয়ের ভবিষ্যতের তোয়াক্কা না করে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই তাকে ছাঁদনা তলায় পাঠানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে মুহূর্তের মধ্যেই অ্যাকশনে যান কুলিয়ারচরের ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার। তিনি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর একটি চৌকস দল নিয়ে আচমকা উপস্থিত হন কনের বাড়িতে। প্রশাসনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। কনের বাবা-মা প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ইউএনও’র জিজ্ঞাসাবাদে সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন। কনের বয়স মাত্র ১৩ বছর হওয়ায় এটি ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের আয়োজন করে আইন অমান্য করায় আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। কনের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন এবং মেয়ে ১৮ বছরে পদার্পণ না করা পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন। অভিযান পরিচালনাকালে কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এসআই অর্পণ বিশ্বাস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার মো. ওবায়দুল্লাহ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার দৃঢ়কণ্ঠে জানান, "বাল্যবিবাহ কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি যা একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে উপজেলা প্রশাসনের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

আপনার মতামত লিখুন