ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে কক্সবাজার শহর জুড়ে গণমিছিল



জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে  কক্সবাজার শহর জুড়ে গণমিছিল

সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট কে পাশ কাটানোর ষড়যন্ত্র বন্ধ করা ও বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, শামসুল আলম বাহাদুর, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, মুহাম্মদ শাহজাহান, জাকির হোছাইন, কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, রামু উপজেলা আমীর ফজলুল্লাহ মু. হাসান, ঈদগাঁও উপজেলা আমীর মাওলানা সলিম উল্লাহ জিহাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী, কক্সবাজার জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি আবু তালহা,কক্সবাজার শহর নায়েবে আমীর কফিল উদ্দিন চৌধুরী, সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল। 

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ১ আগস্ট বিকালে বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন । মিছিল শুরুর পূর্বে বিকাল ৪টা থেকে  বিভিন্ন স্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে জমায়েত হন নেতাকর্মীরা। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন-জুলাই আন্দোলন শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি । তিনি আরো বলেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। ছিল মানবাধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। মানুষের বাক স্বাধীনতা ও দুর্নীতি-দুঃশাসন থেকে মুক্তির আন্দোলন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার আন্দোলন। বৈষম্য-বিভেদ ও বিভক্তির বিরুদ্ধে এক গণ বিস্ফোরণ। তরুণ প্রজন্মের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুধুমাত্র ক্ষমতা পালাবদলের আন্দোলন ছিল না। এই আন্দোলন ছিল দেশের আমূল পরিবর্তন সাধন করে জানমালের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করার আন্দোলন। ফ্যাসিবাদ পালানোর পর কথা ছিল নির্বাচিত সরকার ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তন করে জন আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশ কে নতুন কাঠামোয় গড়ে তুলবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সংস্কার না করে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রেখে দেশ পরিচালনা করছেন। সংস্কারের পক্ষে প্রায় সত্তর ভাগ মানুষ ভোট দিলেও জনগণের সেই ভোট কে অবজ্ঞা করে আসছে বিএনপি সরকার। আমরা বারবার সরকার কে সংস্কার এবং বিচারের কথা বলে আসছি, সরকার ক্ষমতার জোরে জনমতের প্রতি তোয়াক্কা না করে দেশ পরিচালনা করছেন এর পরিমাণ কখনো শুভ হবে না। এখনো সময় আছে জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করুন, নচেৎ দেশের মানুষ আবারো ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আ'লীগ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির কে নিষিদ্ধ করেছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় জামায়াত- শিবির কে নিষিদ্ধের পাঁচ দিনের মাথায় দেশের মানুষ আ'লীগ কে ঘরে-ঘরে নিষিদ্ধ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। হানাহানি ও সংঘাত সৃষ্টি আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু কোথাও জনগণের অধিকার হরণ হলে আমরা বসে থাকবো না। গণভোট একটি মিমাংসিত বিষয়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট কে পাশ কাটানোর ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করুন। ভোটের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। বিরোধী দল ও মত দমন বন্ধ করুন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। আসুন এই দেশ কে গড়তে একসাথে ভূমিকা পালন করি, দেশ ও দেশের মানুষ কে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতিতে পরিণত করি।

উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, কক্সবাজার সদর আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, পেকুয়া উপজেলা আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাইদুল আলম, সেক্রেটারি মুহাম্মদ মুহসিন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর শহিদুল আলম বাহাদুর, রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন, সদর উপজেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান প্রমুখ। গণমিছিলটি জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে আরম্ভ হয়ে যানজট এড়াতে পেট্রোল পাম্প এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে কক্সবাজার শহর জুড়ে গণমিছিল

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট কে পাশ কাটানোর ষড়যন্ত্র বন্ধ করা ও বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, শামসুল আলম বাহাদুর, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, মুহাম্মদ শাহজাহান, জাকির হোছাইন, কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, রামু উপজেলা আমীর ফজলুল্লাহ মু. হাসান, ঈদগাঁও উপজেলা আমীর মাওলানা সলিম উল্লাহ জিহাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী, কক্সবাজার জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি আবু তালহা,কক্সবাজার শহর নায়েবে আমীর কফিল উদ্দিন চৌধুরী, সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল। 

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ১ আগস্ট বিকালে বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন । মিছিল শুরুর পূর্বে বিকাল ৪টা থেকে  বিভিন্ন স্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে জমায়েত হন নেতাকর্মীরা। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন-জুলাই আন্দোলন শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি । তিনি আরো বলেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। ছিল মানবাধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। মানুষের বাক স্বাধীনতা ও দুর্নীতি-দুঃশাসন থেকে মুক্তির আন্দোলন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার আন্দোলন। বৈষম্য-বিভেদ ও বিভক্তির বিরুদ্ধে এক গণ বিস্ফোরণ। তরুণ প্রজন্মের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুধুমাত্র ক্ষমতা পালাবদলের আন্দোলন ছিল না। এই আন্দোলন ছিল দেশের আমূল পরিবর্তন সাধন করে জানমালের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করার আন্দোলন। ফ্যাসিবাদ পালানোর পর কথা ছিল নির্বাচিত সরকার ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তন করে জন আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশ কে নতুন কাঠামোয় গড়ে তুলবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সংস্কার না করে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রেখে দেশ পরিচালনা করছেন। সংস্কারের পক্ষে প্রায় সত্তর ভাগ মানুষ ভোট দিলেও জনগণের সেই ভোট কে অবজ্ঞা করে আসছে বিএনপি সরকার। আমরা বারবার সরকার কে সংস্কার এবং বিচারের কথা বলে আসছি, সরকার ক্ষমতার জোরে জনমতের প্রতি তোয়াক্কা না করে দেশ পরিচালনা করছেন এর পরিমাণ কখনো শুভ হবে না। এখনো সময় আছে জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করুন, নচেৎ দেশের মানুষ আবারো ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আ'লীগ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির কে নিষিদ্ধ করেছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় জামায়াত- শিবির কে নিষিদ্ধের পাঁচ দিনের মাথায় দেশের মানুষ আ'লীগ কে ঘরে-ঘরে নিষিদ্ধ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। হানাহানি ও সংঘাত সৃষ্টি আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু কোথাও জনগণের অধিকার হরণ হলে আমরা বসে থাকবো না। গণভোট একটি মিমাংসিত বিষয়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট কে পাশ কাটানোর ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করুন। ভোটের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। বিরোধী দল ও মত দমন বন্ধ করুন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। আসুন এই দেশ কে গড়তে একসাথে ভূমিকা পালন করি, দেশ ও দেশের মানুষ কে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতিতে পরিণত করি।

উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, কক্সবাজার সদর আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, পেকুয়া উপজেলা আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাইদুল আলম, সেক্রেটারি মুহাম্মদ মুহসিন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর শহিদুল আলম বাহাদুর, রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন, সদর উপজেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান প্রমুখ। গণমিছিলটি জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে আরম্ভ হয়ে যানজট এড়াতে পেট্রোল পাম্প এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ