গ্লাসগো যেন আজ শুধুই একটি শহর নয়, বিশ্ব ক্রীড়ার মিলনমেলা। ক্লাইড নদীর জলে ভেসে উঠছে বিভিন্ন দেশের পতাকার রঙ, রাস্তাজুড়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদ, কোচ, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থীদের পদচারণা। উৎসবের আবহে সেজে ওঠা এই স্কটিশ শহর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাগত জানাবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসকে।
বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় গ্লাসগোর ওভিও হাইড্রো অ্যারেনায় বসবে উদ্বোধনী আয়োজন। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রানি ক্যামিলা, কমনওয়েলথ স্পোর্টের সভাপতি ড. ডোনাল্ড রুকারে, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ ব্ল্যাক এবং স্কটল্যান্ডের ক্রীড়া কিংবদন্তি স্যার ক্রিস হয়সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হবে কিংস ব্যাটন রিলের সমাপ্তি। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ কমনওয়েলথ দিবসে বাকিংহাম প্যালেস থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা ৫০০ দিনে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চল ঘুরে গ্লাসগোয় এসে শেষ হবে। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যাটন রিলে। অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লস ব্যাটনের ভেতরে সংরক্ষিত নিজের বার্তা পড়ে শোনাবেন। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে গ্লাসগো ২০২৬।
এবারের ব্যাটন রিলে ছিল ব্যতিক্রমী। প্রথমবারের মতো প্রতিটি দেশ ও অঞ্চল নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে আলাদা ব্যাটন তৈরি করেছে। গ্লাসগোয় একত্রিত হবে সেই ৭৪টি ব্যাটন। স্কটল্যান্ডের ব্যাটন তৈরি হয়েছে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা টেকসই অ্যাশ কাঠ দিয়ে।
স্কটিশ সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সাজানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের সামনে তুলে ধরবে গ্লাসগোর নিজস্ব পরিচয়।
বাংলাদেশের জন্যও দিনটি বিশেষ। উদ্বোধনী কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা বহন করবেন জাতীয় সাঁতার দলের তরুণ তারকা সামিউল ইসলাম রাফি। আর কিংস ব্যাটন বহনের সম্মান পেয়েছেন সাঁতারু সোনিয়া আক্তার। গ্লাসগোর মঞ্চে তাঁদের হাতেই উড়বে লাল-সবুজের পতাকা।
এবার বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে চারটি ডিসিপ্লিনে ১৫ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে। অ্যাথলেটিকসে থাকছেন ইমরানুর রহমান, শিরিন আক্তার, স্বপ্না খাতুন, লুশাদ ইসলাম ও নজিমুল হোসেন রনি। সাঁতারে অংশ নেবেন সোনিয়া আক্তার, কাজল মিয়া, সামিউল ইসলাম রাফি ও জিন্নাত ফেরদৌস। বক্সিংয়ে লড়বেন রাকিব হোসেন, রুহিন রেজা ও জিন্নাত ফেরদৌস। আর শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকসে থাকছেন শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি।
বিশ্বমানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে পদক জেতা সহজ হবে না। তবু দেশের পতাকা বুকে নিয়ে অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়াটাই প্রতিটি ক্রীড়াবিদের জন্য গর্বের। কেউ নিজের সেরা পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে নামবেন, কেউ অর্জন করতে চাইবেন মূল্যবান আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা।
আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই আসর। ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার অ্যাথলেট ১০টি ক্রীড়া এবং ছয়টি প্যারা স্পোর্টসে অংশ নেবেন। ২১৫টি স্বর্ণপদকের লড়াই হবে স্কটসটাউন স্টেডিয়াম, টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং সেন্টার, স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম ও স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে।
গ্লাসগোর পার্ক, নদীর তীর, ক্যাফে ও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনেও ছড়িয়ে পড়েছে গেমসের আমেজ। কেলভিনগ্রোভ পার্কের ‘গেম অন’ লাইভ সাইট থেকে ক্লাইড নদীর তীরের ‘কমনওয়েলথ মাইল’ পর্যন্ত পুরো শহর যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল উৎসবের মঞ্চে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা যখন মার্চপাস্টে হাঁটবেন, তখন তাঁদের সঙ্গে বহন করবে দেশের সমৃদ্ধ কমনওয়েলথ ইতিহাসও। অতীতের সাফল্য ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা নিয়েই শুরু হবে নতুন স্বপ্নের যাত্রা।
আজ শুধু উদ্বোধনের দিন নয়, নতুন ইতিহাস রচনারও সূচনা। আগামী ১১ দিনে জন্ম নিতে পারে নতুন রেকর্ড, নতুন নায়ক এবং নতুন অনুপ্রেরণার গল্প। আর সেই গল্পের প্রথম অধ্যায় লেখা হবে গ্লাসগোর আলোঝলমলে ওভিও হাইড্রো অ্যারেনায়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
গ্লাসগো যেন আজ শুধুই একটি শহর নয়, বিশ্ব ক্রীড়ার মিলনমেলা। ক্লাইড নদীর জলে ভেসে উঠছে বিভিন্ন দেশের পতাকার রঙ, রাস্তাজুড়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদ, কোচ, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থীদের পদচারণা। উৎসবের আবহে সেজে ওঠা এই স্কটিশ শহর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাগত জানাবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসকে।
বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় গ্লাসগোর ওভিও হাইড্রো অ্যারেনায় বসবে উদ্বোধনী আয়োজন। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রানি ক্যামিলা, কমনওয়েলথ স্পোর্টের সভাপতি ড. ডোনাল্ড রুকারে, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ ব্ল্যাক এবং স্কটল্যান্ডের ক্রীড়া কিংবদন্তি স্যার ক্রিস হয়সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হবে কিংস ব্যাটন রিলের সমাপ্তি। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ কমনওয়েলথ দিবসে বাকিংহাম প্যালেস থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা ৫০০ দিনে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চল ঘুরে গ্লাসগোয় এসে শেষ হবে। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যাটন রিলে। অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লস ব্যাটনের ভেতরে সংরক্ষিত নিজের বার্তা পড়ে শোনাবেন। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে গ্লাসগো ২০২৬।
এবারের ব্যাটন রিলে ছিল ব্যতিক্রমী। প্রথমবারের মতো প্রতিটি দেশ ও অঞ্চল নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে আলাদা ব্যাটন তৈরি করেছে। গ্লাসগোয় একত্রিত হবে সেই ৭৪টি ব্যাটন। স্কটল্যান্ডের ব্যাটন তৈরি হয়েছে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা টেকসই অ্যাশ কাঠ দিয়ে।
স্কটিশ সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সাজানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের সামনে তুলে ধরবে গ্লাসগোর নিজস্ব পরিচয়।
বাংলাদেশের জন্যও দিনটি বিশেষ। উদ্বোধনী কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা বহন করবেন জাতীয় সাঁতার দলের তরুণ তারকা সামিউল ইসলাম রাফি। আর কিংস ব্যাটন বহনের সম্মান পেয়েছেন সাঁতারু সোনিয়া আক্তার। গ্লাসগোর মঞ্চে তাঁদের হাতেই উড়বে লাল-সবুজের পতাকা।
এবার বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে চারটি ডিসিপ্লিনে ১৫ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে। অ্যাথলেটিকসে থাকছেন ইমরানুর রহমান, শিরিন আক্তার, স্বপ্না খাতুন, লুশাদ ইসলাম ও নজিমুল হোসেন রনি। সাঁতারে অংশ নেবেন সোনিয়া আক্তার, কাজল মিয়া, সামিউল ইসলাম রাফি ও জিন্নাত ফেরদৌস। বক্সিংয়ে লড়বেন রাকিব হোসেন, রুহিন রেজা ও জিন্নাত ফেরদৌস। আর শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকসে থাকছেন শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি।
বিশ্বমানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে পদক জেতা সহজ হবে না। তবু দেশের পতাকা বুকে নিয়ে অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়াটাই প্রতিটি ক্রীড়াবিদের জন্য গর্বের। কেউ নিজের সেরা পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে নামবেন, কেউ অর্জন করতে চাইবেন মূল্যবান আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা।
আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই আসর। ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার অ্যাথলেট ১০টি ক্রীড়া এবং ছয়টি প্যারা স্পোর্টসে অংশ নেবেন। ২১৫টি স্বর্ণপদকের লড়াই হবে স্কটসটাউন স্টেডিয়াম, টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং সেন্টার, স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম ও স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে।
গ্লাসগোর পার্ক, নদীর তীর, ক্যাফে ও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনেও ছড়িয়ে পড়েছে গেমসের আমেজ। কেলভিনগ্রোভ পার্কের ‘গেম অন’ লাইভ সাইট থেকে ক্লাইড নদীর তীরের ‘কমনওয়েলথ মাইল’ পর্যন্ত পুরো শহর যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল উৎসবের মঞ্চে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা যখন মার্চপাস্টে হাঁটবেন, তখন তাঁদের সঙ্গে বহন করবে দেশের সমৃদ্ধ কমনওয়েলথ ইতিহাসও। অতীতের সাফল্য ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা নিয়েই শুরু হবে নতুন স্বপ্নের যাত্রা।
আজ শুধু উদ্বোধনের দিন নয়, নতুন ইতিহাস রচনারও সূচনা। আগামী ১১ দিনে জন্ম নিতে পারে নতুন রেকর্ড, নতুন নায়ক এবং নতুন অনুপ্রেরণার গল্প। আর সেই গল্পের প্রথম অধ্যায় লেখা হবে গ্লাসগোর আলোঝলমলে ওভিও হাইড্রো অ্যারেনায়।

আপনার মতামত লিখুন