জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী দিনগুলো আজ দেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কিন্তু এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছরের অবিরাম নিপীড়ন, মামলা-হামলা এবং রাজপথের অগণিত সহযোদ্ধার আত্মত্যাগের গল্প। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাজীবনের নির্মম নির্যাতন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সম্প্রতি ‘উন্নয়নে বাংলাদেশ’ পত্রিকার রিপোর্টার আবু সাঈদের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক তুখোড় নেতা আব্দুর রহিম।
আলাপচারিতার শুরুতেই আব্দুর রহিম স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনের সেইসব উত্তাল দিনগুলোর কথা। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনের শহীদের রক্তে যে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে হাজারো তরুণের তাজা রক্ত।
নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা বলতে গিয়ে আব্দুর রহিম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ১৭টি বছর আমরা রাজপথে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমার সাথে যেসব সহযোদ্ধা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, আজ তাদের অনেকেই জীবনযুদ্ধের সাথে কঠিন লড়াই করছেন। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ মামলার বেড়াজালে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে তার ওপর নেমে এসেছিল একের পর এক মিথ্যা মামলা এবং হয়রানির খড়্গ। দীর্ঘ কারাজীবনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুনের নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাকে। সেই ভয়াবহ টর্চারের স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু শত নির্যাতনের পরও তিনি এবং তার কর্মীরা রাজপথ ছেড়ে যাননি।
সাক্ষাৎকারে আব্দুর রহিম অত্যন্ত আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে। এ দেশের আপামর জনতার প্রিয় নেতা, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।"
তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, "জননেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মী সর্বদা প্রস্তুত আছি। জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং তার যেকোনো প্রশ্নে আমরা রাজপথের সৈনিকেরা অতীতেও আপসহীন ছিলাম, ভবিষ্যতেও আপসহীন থাকব।
বর্তমান সরকারকে নিয়ে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে চালানো বিভিন্ন অপপ্রচার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই যুবদল নেতা। তিনি সরকারকে নিয়ে যারা নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
"যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। দেশের মানুষ আপনাদের চেনে। রাজপথের কর্মীরা বেঁচে থাকতে এই সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে যুবদল প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সময় যুবদলের এই সাবেক নেতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে।
আব্দুর রহিম সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, "সারজিস আলম সাহেব, আপনি তো ছিলেন ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ এর কর্মী। আপনি আমাদের কি গণতন্ত্র আর সংগ্রামের পাঠ বোঝাবেন? দীর্ঘ ১৭ বছর যখন আমরা স্বৈরাচারের জেলে পচেছি, ডিবি হারুনের ডিশে টর্চার খেয়েছি, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? যারা সারা জীবন ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ছিল, তারা আজ হঠাৎ করে এসে রাজপথের পোড়খাওয়া নেতাদের জ্ঞান দিতে পারে না।
সাক্ষাৎকারে যুবদলের এই সাবেক নেতার বক্তব্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর স্বস্তি ফিরে এসেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ তৃণমূলের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান বা সাবেক সরকারের সুবিধাভোগীদের আকস্মিক ভোল পাল্টানোকে রাজপথের পোড়খাওয়া নেতারা সহজভাবে নিচ্ছেন না।
সবশেষে আব্দুর রহিম অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষা করতে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অক্ষুণ্ন রাখতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী দিনগুলো আজ দেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কিন্তু এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছরের অবিরাম নিপীড়ন, মামলা-হামলা এবং রাজপথের অগণিত সহযোদ্ধার আত্মত্যাগের গল্প। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাজীবনের নির্মম নির্যাতন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সম্প্রতি ‘উন্নয়নে বাংলাদেশ’ পত্রিকার রিপোর্টার আবু সাঈদের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক তুখোড় নেতা আব্দুর রহিম।
আলাপচারিতার শুরুতেই আব্দুর রহিম স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনের সেইসব উত্তাল দিনগুলোর কথা। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনের শহীদের রক্তে যে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে হাজারো তরুণের তাজা রক্ত।
নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা বলতে গিয়ে আব্দুর রহিম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ১৭টি বছর আমরা রাজপথে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমার সাথে যেসব সহযোদ্ধা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, আজ তাদের অনেকেই জীবনযুদ্ধের সাথে কঠিন লড়াই করছেন। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ মামলার বেড়াজালে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে তার ওপর নেমে এসেছিল একের পর এক মিথ্যা মামলা এবং হয়রানির খড়্গ। দীর্ঘ কারাজীবনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুনের নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাকে। সেই ভয়াবহ টর্চারের স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু শত নির্যাতনের পরও তিনি এবং তার কর্মীরা রাজপথ ছেড়ে যাননি।
সাক্ষাৎকারে আব্দুর রহিম অত্যন্ত আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে। এ দেশের আপামর জনতার প্রিয় নেতা, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।"
তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, "জননেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মী সর্বদা প্রস্তুত আছি। জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং তার যেকোনো প্রশ্নে আমরা রাজপথের সৈনিকেরা অতীতেও আপসহীন ছিলাম, ভবিষ্যতেও আপসহীন থাকব।
বর্তমান সরকারকে নিয়ে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে চালানো বিভিন্ন অপপ্রচার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই যুবদল নেতা। তিনি সরকারকে নিয়ে যারা নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
"যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। দেশের মানুষ আপনাদের চেনে। রাজপথের কর্মীরা বেঁচে থাকতে এই সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে যুবদল প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সময় যুবদলের এই সাবেক নেতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে।
আব্দুর রহিম সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, "সারজিস আলম সাহেব, আপনি তো ছিলেন ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ এর কর্মী। আপনি আমাদের কি গণতন্ত্র আর সংগ্রামের পাঠ বোঝাবেন? দীর্ঘ ১৭ বছর যখন আমরা স্বৈরাচারের জেলে পচেছি, ডিবি হারুনের ডিশে টর্চার খেয়েছি, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? যারা সারা জীবন ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ছিল, তারা আজ হঠাৎ করে এসে রাজপথের পোড়খাওয়া নেতাদের জ্ঞান দিতে পারে না।
সাক্ষাৎকারে যুবদলের এই সাবেক নেতার বক্তব্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর স্বস্তি ফিরে এসেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ তৃণমূলের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান বা সাবেক সরকারের সুবিধাভোগীদের আকস্মিক ভোল পাল্টানোকে রাজপথের পোড়খাওয়া নেতারা সহজভাবে নিচ্ছেন না।
সবশেষে আব্দুর রহিম অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষা করতে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অক্ষুণ্ন রাখতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন