ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

​বাড়ির বুকেই রক্তস্নাত বিএনপি নেতা, মিঠামইনে প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এলাকায় শোকের ছায়া


সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ।
সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ।
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬

​বাড়ির বুকেই রক্তস্নাত বিএনপি নেতা, মিঠামইনে প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এলাকায় শোকের ছায়া

হাওরাঞ্চলের শান্ত জনপদ মিঠামইনে এক নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছামাত্রই দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও এলোপাতাড়ি কোপে প্রাণ হারিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫০)। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। হামলায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন হাদিস মিয়া নামে আরও এক বিএনপি কর্মী। ​


এই ঘটনায় পুরো মিঠামইন এলাকায় চরম উত্তেজনা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকা থেকে আসা তিন ভাড়াটে খুনি এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ এক খুনিসহ তিনজনকে আটক করেছে।  

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাতে মিঠামইন বাজার থেকে সাংগঠনিক কাজ বা ব্যক্তিগত কাজ শেষে সহকর্মী হাদিস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে নিজ বাসভবনের দিকে ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা যখন নিজ বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে পৌঁছান, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত তাঁদের ওপর অতর্কিত ও হিংস্র থাবা বাড়ায়। হামলাকারীদের হাতে ছিল দেশীয় ধারালো চাপাতি ও অস্ত্র। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনিরা জাহাঙ্গীরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁর চিৎকারে সহকর্মী হাদিস মিয়া বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু তাঁকেও নির্দয়ভাবে কুপিয়ে জখম করে খুনিরা। এরপর রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঘাতক চক্র।

​আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  


​হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আনন্দ বসাক জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে যখন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে আনা হয়, তার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তবে গুরুতর আহত হাদিস মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।  

​মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,  "এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। আমরা অবিলম্বে এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"

  

​ঘটনার পর থেকেই জেলা পুলিশ ও স্থানীয় থানা প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে, জাহাঙ্গীরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঢাকা থেকে ৩ জন ভাড়াটে খুনিকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে এক খুনিসহ সন্দেহভাজন ৩ জনকে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোনো রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।  

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


​বাড়ির বুকেই রক্তস্নাত বিএনপি নেতা, মিঠামইনে প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এলাকায় শোকের ছায়া

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

হাওরাঞ্চলের শান্ত জনপদ মিঠামইনে এক নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছামাত্রই দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও এলোপাতাড়ি কোপে প্রাণ হারিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫০)। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। হামলায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন হাদিস মিয়া নামে আরও এক বিএনপি কর্মী। ​


এই ঘটনায় পুরো মিঠামইন এলাকায় চরম উত্তেজনা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকা থেকে আসা তিন ভাড়াটে খুনি এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ এক খুনিসহ তিনজনকে আটক করেছে।  

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাতে মিঠামইন বাজার থেকে সাংগঠনিক কাজ বা ব্যক্তিগত কাজ শেষে সহকর্মী হাদিস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে নিজ বাসভবনের দিকে ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা যখন নিজ বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে পৌঁছান, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত তাঁদের ওপর অতর্কিত ও হিংস্র থাবা বাড়ায়। হামলাকারীদের হাতে ছিল দেশীয় ধারালো চাপাতি ও অস্ত্র। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনিরা জাহাঙ্গীরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁর চিৎকারে সহকর্মী হাদিস মিয়া বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু তাঁকেও নির্দয়ভাবে কুপিয়ে জখম করে খুনিরা। এরপর রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঘাতক চক্র।

​আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  


​হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আনন্দ বসাক জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে যখন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে আনা হয়, তার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তবে গুরুতর আহত হাদিস মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।  

​মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,  "এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। আমরা অবিলম্বে এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"

  

​ঘটনার পর থেকেই জেলা পুলিশ ও স্থানীয় থানা প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে, জাহাঙ্গীরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঢাকা থেকে ৩ জন ভাড়াটে খুনিকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে এক খুনিসহ সন্দেহভাজন ৩ জনকে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোনো রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।  

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ